ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) নির্যাতনে নিহত বাংলাদেশি আবু সাঈদের (২৫) এর মরদেহ দুইদিন পর বুড়িমারী সীমান্ত দিয়ে ফেরত দিয়েছে।

সোমবার (১৩ জানুয়ারী) সন্ধার পর পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর হয়ে ভারতীয় পুলিশ বাংলাদেশি পুলিশের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে।

এর আগে গত শনিবার (১১ জানুয়ারী) পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী বামনদল সীমান্তের ৮৩৬ ও ৮৩৭ নম্বর মেইন পিলার এলাকা থেকে ভারতীয় মেখলিগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

নিহতের পরিবার ও বিজিবি জানান, শুক্রবার সকালে আবু সাঈদ সীমান্তের ভারতের অভ্যন্তরে তামাক ক্ষেতে কাজ করছিল। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) চোরাকারবারি সন্দেহে আবু সাঈদকে বেদর মারপিট করে বিদ্যুতের পিলারের কাছে ফেলে রেখে যায়।

পরে সেখানে তার মৃত্যু হলে ঘটনাস্থল থেকে শনিবার সকালে মেখলিগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে বলে অভিযোগ করেন নিহতের পরিবার। তবে বিএসএফের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই সীমান্ত হয়ে অবৈধভাবে গরু পাচারের সময় বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রংপুর ৬১ ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে ভারতীয় বিএসেএফকে পত্র পাঠিয়ে পতাকা বৈঠকের আয়োজন করা হলে দুইদিন পর ভারতীয় মেখলিগঞ্জ থানার ওসি রাজেশ কুমার নিহত বাংলাদেশি আবু সাঈদের মরদেহ বুড়িমারী স্থলবন্দর গেটে পাটগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুমন্ত কুমার মোহন্তের কাছে হস্তান্তর করেন।

এ সময় উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপিস্থত ছিলেন।

পাটগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুমন্ত কুমার মোহন্ত ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করে জানান, নিহতের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না/লালমনিরহাট