মানসিক রোগের চিকিৎসা হলো আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা ও আস্থা রাখা। কিছু কথা বলে রাখি, মানসিক রোগ ব্যক্তির ব্যক্তিক, পারিবারিক এবং সামাজিক কর্মক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যহত করে এবং ধীরে ধীরে রোগীকে পরিবার তথা সমাজের বোঝায় পরিণত করে, জীবন হয়ে উঠে মূল্যহীন।

ভূত-প্রেত ধরা বলতে কিছু নেই এসব ক্ষেত্রে ধরে নেওয়া উচিৎ যে রোগী কোনো মানসিক কিংবা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।মানসিক রোগ ঝাড়ফুঁক, তাবিজ কবজ, পানিপোড়া ভালো হয়না বরং রোগীর আত্মবিশ্বাস আরো দুর্বল করে, চিন্তাশক্তিকে বিপথে ধাবিত করে,রোগকে করে আরো জটিল। যত তাড়াতাড়ি চিকিৎসা করা যাবে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ ততো তাড়াতাড়ি হবে।

মানসিক রোগীর সুস্থতার জন্য চিকিৎসার পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক সহযোগীতার একান্ত প্রয়োজন। পরিবার, প্রতিবেশী, আত্মীয় স্বজন, চিকিৎসাক সকলের সহানুভূতি, সহযোগিতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে একজন মানসিক রোগীকে সুস্থ, সবল ও স্বাভাবিক করে তুলতে। আসুন আমরা সকলে শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সম্বন্ধে সচেতন হই এবং একটি সুস্থ সুন্দর কর্মক্ষম নাগরিক সমাজ গড়ে তুলি।

তবে আমি একজন মুসলমান হিসাবে শতভাগ নিশ্চিত করে বলতে পারি, কারো যদি মহান আল্লাহ্‌ তায়ার উপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস থাকে তাহলে তার কোনো রকমের মানসিক চিন্তা আসবে না। কেননা, মানুষ তার ভবিষ্যৎ, অতীত কিছু বলতে পারেন না। আল্লাহ এই ক্ষমতা মানুষকে দেননি।

একটা উদাহরণ দেই, ধরুন আপনি একা একটা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন, আপনার হাতে একটা পিস্তল এবং কয়েকটা গুলি আছে।
আপনার গন্তব্য স্থলের দূরত্ব ধরেই নিলাম পাঁচ কিলোমিটার। তো যাই হোক, আপনি পথ চলছেন, রাস্তায় যাওয়ার সময় বিভিন্ন গাড়ি, প্রাণি আপনার শত্রু তাদেরকে মোকাবেলা করে যেতে হবে। এখন আপনি ঘরে বসে ভাবছেন যাবো কিনা! ভয়, কি হবে, আমি একা ইত্যাদি ইত্যাদি।

আসলে এ ঘটনা বললাম এই জন্য যে জীবন ঠিক ওই রাস্তার মতো, আপনার জীবন চলতে গেলে বিভিন্ন ঝড়-ঝামেলা আসবেই। সেটা মোকাবেলা করেই এগিয়ে যেতে হবে। আর এই সাহস নিয়ে যদি পথ চলতে পারেন, তাহলে কোনো মানসিক চাপ কাছে আসতে পারবে না। শক্তি আর সাহস থাকলে পুরো পৃথিবী জয় করা সম্ভব।

লেখক: আরিফ আহমেদ
শিক্ষার্থী, কারমাইকেল কলেজ, রংপুর