পুকুর ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পশ্চিম পাশে শত বছরের পুরনো পুকুর প্রকাশ্যে ভরাট করে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে। এতে পরিবেশ আইন লঙ্ঘন হলেও কাজ বন্ধে নীরব রয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন দেখে গেলেও পুকুর ভরাট বন্ধে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, দিনরাত ট্রাকে ট্রাকে মাটি এনে বিরামহীন গতিতে চলছে পুকুর ভরাটের কাজ। মহাসড়কের সাথে লাগোয়া সরকারি জায়গার এই পুকুরটি ইতিমধ্যে প্রায় অর্ধেক ভরাট করে ফেলা হয়েছে। ভরাট করা জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে বাণিজ্যিক স্থাপনা।

স্থানীয়রা জানান, বাড়বকুণ্ড বাজারের পাশে সরকারি জায়গার উপর এই পুকুরটি প্রাচীনতম। এই পুকুরটির পানি বাজারের ব্যবসায়ীসহ কয়েক হাজার মানুষ ব্যবহার করে। এলাকার পরিবেশ এবং বায়ুমণ্ডল রক্ষা করা, পুকুরে গোসল করা, মসজিদের মুসল্লিদের অজু করা, বাজারের আশপাশে সংগঠিত অগ্নিকাণ্ড নির্বাপনে এ পুকুরটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

কিন্তু ক্ষমতার প্রভাব খাঁটিয়ে জনৈক সিরাজুল ইসলাম পুকুরটি দফায় দফায় ভরাট করে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করেন। আর এতে জনগুরুত্বপূর্ণ শতবর্ষীয় পুকুরটি বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা পুকুর ভরাট করে বাণিজ্যিকভাবে স্থাপনা তৈরির কাজ বন্ধ করে পুকুরটি পুনরুদ্ধারে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, প্রভাবশালী মহলটি প্রকাশ্যে পুকুর ভরাট করলেও প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এ বিষয়ে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার মিলছে না। বর্তমানে এ এলাকায় পানি সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। শতবছরের এ পুকুরটি রক্ষার্থে তিনি প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

পুকুর ভরাটের বিষয়ে অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম জানান, নিজস্ব সম্পত্তির উপরই তিনি স্থাপনা নির্মাণ করছেন। পুকুর বা জলাশয় ভরাটে আইনগত অনুমতি লাগে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি এর সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেন, নিয়ম নীতি মেনেই পুকুর ভরাট করছি। তবে এ বিষয়ে তিনি কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দ মাহবুবুল হক বলেন, বিনা অনুমতিতে পুকুর বা জলাশয় ভরাটের কোন নিয়ম নেই। কেউ পুকুর ভরাট করতে চাইলে ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি নিতে হবে। প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইনে তা স্পষ্ট করে উল্লেখ করা আছে। স্থানীয় এলাকাবাসী সোচ্চার হলে এ ধরণের জলাশয় ভরাট অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি।

চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মাহিনুল ইসলাম বলেন, পুকুরটি ভরাটের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। যারা পুকুরটি ভরাট করছে তাদেরকে পুকুরের খতিয়ানসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে বলা হয়েছে। কাগজপত্র পর্যালোচনার পর পুকুর ভরাট বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মেজবাহ খালেদ/সীতাকুন্ড/চট্টগ্রাম