বাসা বদলের দুদিন আগে থেকেই কাগজের কিছু বড় এবং ছোট কার্টন কিনে রাখুন। ছবি : সংগৃহীত

নতুন বাসায় গিয়ে বসবাস করাটা অনেকের কাছেই একটা উত্তেজনা তৈরি করে। কিন্তু অনেকে বাসা বদলের হুলস্থুল অবস্থার কথা চিন্তা করতেই ভয় পেয়ে যান। কারণ এতে ঝামেলার কমতি নেই। বাসা বদল করা কি আসলেও ঝামেলার কাজ? হ্যাঁ, একটু তো ঝামেলা বটেই তবে একটু বুদ্ধি করে মিলিয়ে নিলেই কিন্তু এই ঝামেলাটুকু আর ঝামেলা মনে হয় না। চলুন জেনে নিই, বাসা বদল করার ঝামেলাটাকে কম করে দেয়ার কিছু টিপস।

১) বাসা বদলের দুদিন আগে থেকেই কাগজের কিছু বড় এবং ছোট কার্টন কিনে রাখুন। ঘরের মালামালগুলো একদম শেষ দিনে গোছানোর জন্য রেখে দেবেন না। যে মাসে নতুন বাসায় উঠবেন তার আগের মাস থেকেই একটু একটু করে গোছাতে থাকুন।

যেমন- শোকেসের কাচের থালা বাটি বা শোপিস-গুলো আগে থেকেই ঢুকিয়ে নিতে পারেন কাগজের বড় বড় কার্টনে। আর হ্যাঁ, কাচের জিনিসগুলো কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে নিতে ভুলবেন না।

২) আলমারি বা ড্রয়ারের জামা-কাপড়গুলো বড় বড় বিছানার চাদরের ভিতরে সুন্দর করে ভাজ করে রেখে চাদরটাকে গিঁট দিয়ে দিতে পারেন। এতে করে চাদরের সাথে সাথে জামা কাপড়ও গুছানো হয়ে যাবে।

৩) বাসায় তো আজকাল সবারই বড় কন্টেইনার থাকে। সেগুলোর ভিতরে চামচ, চুরি ইত্যাদি জিনিসগুলো ঢুকিয়ে নিন। দাঁ অথবা বটিগুলো অবশ্যই খবরের কাগজ দিয়ে মুড়ে তারপর রাখবেন।

৪) একেকটা ঘরের জিনিসপত্র যেসব কার্টনে রাখবেন, সেসব কার্টনগুলোর গাঁয়ে কিছু চিহ্ন দিয়ে রাখুন যাতে নতুন বাসায় যাওয়ার পর এক রুমের জিনিস বের করতে গিয়ে ভুলে অন্য রুমের জিনিস ভরা কার্টন না খুলে ফেলেন।

৫) ফ্যান, টিভি, টিউব লাইট ইত্যাদি জিনিসগুলো খুলে রেখে দিতে পারেন বাসা ছাড়ার আগের দিনই।

৬) বাসা বদলের সময় মূল্যবান সামগ্রীগুলো একটু যত্নেই রাখতে হবে আপনাকে, নিজ দায়িত্বে। যেভাবে আপনই চান সেভাবেই রাখতে হবে।

৭) তেল বা তরল জাতীয় (শ্যাম্পু, লোশন ইত্যাদি) জিনিসগুলোর মুখ প্লাস্টিকের প্যাকেট দিয়ে মুড়ে নিন। এতে করে সেগুলো থেকে গড়িয়ে পড়ে সবকিছুতে লেগে যাওয়ার হাত থেকে বেঁচে যাবেন।

৮) বাসা বদলের ঠিক আগের দিন রাতে বন্ধ করে রাখতে পারেন ফ্রিজ অথবা ডিপ ফ্রিজটি। পরদিন সকালে যে পানিটুকু ফ্রিজ থেকে পড়বে সেটুকু ফেলে দিলেই ব্যাস ঝামেলা শেষ। খুব ভাল হয় ফ্রিজের জিনিসগুলো কাছাকাছি কোন আত্মীয়ের বাসায় রেখে দিলে। নতুন বাসায় উঠেই কিন্তু ফ্রিজ চালু করবেন না। ফ্রিজ আনা নেয়ার পথে কম্প্রেশারে চাপ লাগতে পারে। তাই কিছু সময় পর চালু করতে হবে।

৯) আপনি যদি গাছপ্রেমী হন তাহলে আপনার শখের গাছগুলোকে একটু যত্ন করেই তবে আনা নেয়া করতে হবে। সুবিধার্তে, গাছগুলোর ডালপালাগুলো একটু ছেঁটে ছোট করে নিতে পারেন।

১০) সবশেষে বাসা খালি করার আগের রাতে তাড়াহুড়ো করে সব না করে সময় নিয়ে একটু একটু করে আগে থেকেই সব গুছিয়ে ফেলুন। এতে আপনারই মঙ্গল।

আজকের পত্রিকা/কেএইচআর/