আত্মহত্যা। প্রতীকী ছবি।

নিজ বাবা ২য় বিয়ে করায় চিরকুট লিখে বিদায় নিলো মাহমুদা আক্তার (১৯) নামে এক কলেজ ছাত্রী। সম্প্রতি ওই কলেজ ছাত্রীর বাবা হারুন জমাদ্দার এক বেদে মেয়েকে বিয়ে করে। সেই অভিমানেই আত্মহত্যা করেন বলে চিরকুটে লিখেন মেয়ে।

ঘটনাটি ঘটেছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চরবংশী গ্রামে। ১৩ এপ্রিল শনিবার বিকালে কলেজ ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মাহমুদা ওই গ্রামের হারুনুর জমাদ্দারের মেয়ে ও হায়দরগঞ্জ মডেল কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, কলেজ ছাত্রী মাহমুদার ঘর থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে লেখা ছিল, ‘মা! বাবার এরকম একটি মেয়েকে বিয়ে করা ঠিক হয়নি। মা ! আমি মরে যাওয়ার পর তুমি আর বাবার কাছে থাকবে না। তুমি অলি ও আরিফকে (মাহমুদার ২ ছোট ভাই) নিয়ে চলে যাবে। আমাকে নিয়ে অনেক চিন্তা ছিল, তাই আমি তোমাকে চিন্তামুক্ত করে দিলাম। বাবাকে আমি অনেক খারাপ খারাপ কথা বলেছি, এইটুকু পেটে আহারের জন্য। বাবার কারণে শেষ পর্যন্ত আমি অনেক দূরে চলে গেলাম। বাবা যে মুন্নিকে বিয়ে করেছে তার কারণে কারও কাছে মুখ দেখাতে পারব না, আর পারিওনি।’

১৪ এপ্রিল রবিবার হাজীমারা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাহমুদার বাবা হারুন জমাদ্দার সম্প্রতি এক বেদে নারীকে বিয়ে করে। কিন্তু মেয়েটি বাবার এ বিয়েটি মেনে নিতে পারেনি। যার ফলে বাবার ওপর অভিমান করে নিজের ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয় মাহমুদা। পরে খবর পেয়ে ওই ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে হাজিমারা পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়।

তিনি বলেন, মাহমুদার ঘর থেকে উদ্ধার করা চিরকুট থেকে এসব তথ্য জানা যায়। এ ঘটনায় রায়পুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মোঃ সোহেল রানা, লক্ষ্মীপুর