ভূমিহীন পরিবারের সদস্যরা।

হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার কাগাপাশা গ্রামের ২ ভূমিহীন সংখ্যালঘু ঋষি (মুচি) পরিবার সরকারের নিকট থেকে ভূমি পেয়েও ওই ভূমিতে বসবাস করতে না পেরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা। এসিল্যান্ড অফিস থেকে জমি দখল পেলেও ওই ভূমি দখল করে ঘর-বাড়ী নির্মাণ করে বসবাস করছেন কাগাপাশা গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে ছাবির মিয়া ও মনর আলীর ছেলে গুলজার মিয়া।

২০০১ সালে ৯৯ বছরের জন্য বন্দোবস্ত পেয়ে ভাসমান পরিবার দুটি ঘর-বাড়ি তৈরি করে বসবাসের স্বপ্ন বুনছিলেন। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন ধুলিসাৎ করে দেয় প্রভাবশালী ছাবির ও গুলজার। দুই পরিবারের ১৬ সদস্য থাকেন জীর্ণ দুইটি কুটিরে। অবশেষে ওই পরিবার দুইটি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। তাদের সম্পত্তি ফিরে পেতে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ পেয়ে বানিয়াচং থানার পুলিশ ভূমিহীনদের আশ্রয়স্থল ফিরিয়ে দিতে অভিযানে নেমেছেন। অসহায় পরিবার দুইটিকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছেন কাগাপাশা গ্রামের সাবেক মেম্বার মাহমুদ আলী ও এলাকার হৃদয়বান ব্যক্তিরা।

জানা যায়, কাগাপাশা গ্রামের নজিরপুর মৌজার ৪৫৩ দাগের লায়েক পতিত রকম ৬১ শতক ভূমি রূপচান রবি দাস ও ফুলবাসী রবিদাস, একই দাগে ৫০ শতক ভূমি নগিনা রবি দাস ও মনিয়া রবি দাস সরকার কর্তৃক ৯৯ বছরের জন্য ভূমিহীন হিসেবে বন্দোবস্ত পান ২০০১ সালে। ২০১৬ সালে ভূমিটি ওই দুই পরিবারের অনুকূলে দখল সমজিয়ে দেয় বানিয়াচং এসিল্যান্ড অফিস। কিন্তু দখল পেলেও তাদের ওই ভূমিতে ঘর-বাড়ি নির্মাণ করতে দেয়নি ছাবির-গুলজার।

সম্প্রতি কাগাপাশা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মাহমুদ আলীর পরামর্শে ফুলবাসী রবিদাস বাদী হয়ে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবরে লিখিত আবেদন করেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বানিয়াচং থানার এস আই হাবিবুর রহমান দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে গত শুক্রবার সরজমিনে তদন্তে নামেন। তিনি প্রতিদিনের বাণীকে বলেন, অভিযোগকারীরা নিরীহ ব্যক্তি। উভয় পক্ষকে ডেকেছি। কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সরকার যার পক্ষে তার পক্ষে কাজ করবেন বলে জানান পুলিশের এ উপ-পরিদর্শক।