বানিয়াচং উপজেলা পরিষদ

দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে বানিয়াচংয়ে উন্মুক্ত মাঠে সরকারী ভাতাভোগী সনাক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।

গত ৫ ডিসেম্বর সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গাজী মোঃ নুরুল কবির এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেন। পত্রে বলা হয় বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদে বর্নিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় বয়স্ক, বিধবা, ও স্বামী নিগৃহিতা মহিলা এবং অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা কার্যক্রম প্রবর্তন করা হয়েছে। ওই সকল কর্মসূচী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ সমুহের অন্যতম।

সম্প্রতি কয়েকটি ইলেক্ট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ওই কর্মসূচীতে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে তালিকায় অন্তর্ভূক্তি এবং মৃত ভাতাভোগীদের স্থলে প্রতিস্থাপন না করে কতিপয় অসাধু ব্যক্তিবর্গের সহযোগীতায় ভাতার অর্থ উত্তোল করা হচ্ছে মর্মে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর ফলে একদিকে ভাতা প্রাপ্তির যোগ্য ব্যক্তি সরকারের প্রদত্ত সুবিধা হতে বঞ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে সরকারের ভাবমুর্তিও ক্ষুন্ন হচ্ছে। তাই উল্লেখিত ভাতাভোগী নির্নয়ে ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকলের উপস্থিতিতে উন্মুক্তভাবে বাছাইয়ের নির্দেশনা রয়েছে বিধায় দেশের সকল উপজেলা ও শহরে নির্দেশনানুযায়ী ভাতাভোগী সনাক্তের নির্দেশ দেন মহা পরিচালক।

উল্লেখ্য সম্প্রতি জিটুপি (গভর্মেন্ট টু পার্সন) পদ্ধতি চালু করার সময় বানিয়াচং উপজেলায় ১৬ শত ১৪ জন ভাতাভোগীর অস্তিত্বই খোঁজে পায়নি সার্ভেকারী দল। সূত্র জানায় নিয়মানুযায়ী উন্মোক্তভাবে ভাতাভোগী বাছাই না করায় কতিপয় ব্যক্তিরা অসহায় মানুষের হাজার হাজার টাকা লুটেপুটে খাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সাইফুল ইসলাম প্রধান জানান উপজেলায় শতকরা ১০ ভাগ ভাতাভোগীর অস্থিত্ব পাওয়া যাচ্ছেনা। এর কারন সম্পর্কে তিনি বলেন সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী এগুলো বাছাই না করে ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা বাছাই করতেন। তিনি বলেন মহাপরিচালক মহোদয়ের নির্দেশের পর আগামী অর্থ বছরে মাইকিং করে প্রকাশ্যে বানিয়াচং উপজেলার নতুন ভাতাভোগী নির্ধারণ করা হবে। ফলে প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদের সরকারী ভাতার আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে।

জীবন আহমেদ লিটন/বানিয়াচং