হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার ৯ নং পুকড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ও মেম্বার গোপাল দাশের বিরুদ্ধে কর্মসৃজন প্রকল্পের ৫০ জন অতি দরিদ্র শ্রমিকের স্বাক্ষর জাল করে ৩ লাখ ৪৯ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

গত ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে অতি দরিদ্র মাটিকাটা শ্রমিকদের সর্দার গোপরাজ দাশ জন্টুসহ মোট ৫০ জন শ্রমিক স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে দাখিল করেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে ২৮ জানুয়ারী মঙ্গলবার ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ বিষয়টির তদন্তের ১ম শুনানী করেছেন বানিয়াচংয়ের সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) মোঃ মতিউর রহমান খান। এছাড়া একই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মেম্বার চুনু মিয়া চৌধুরীর দায়ের করা কম্বল বিতরণে অনিয়মেরও শুনানী হয় একই সময়।

শুনানীকালে প্রয়োজনীয় তথ্যাধি পেশ করতে সময় নিয়েছেন চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ও মেম্বার গোপাল দাশ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায় পুকড়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের অন্তভর্‚ক্ত কান্দিপাড়া গ্রামের রঞ্জিত দাশের বাড়ির সামন হতে একই গ্রামের কালভার্ট পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে অতি দরিদ্র কর্মসূচীর আওতায় মাটিকাটার ৫০ জন শ্রমিককে কাজে লাগান চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ও মেম্বার গোপাল দাশ। ৪০ দিন কাজ করার পর তারা প্রত্যেকে ৮ হাজার টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও তাদের স্বাক্ষর জাল করে নাগুড়া ফার্ম সোনালী ব্যাংক থেকে ৫০ জন শ্রমিকের ৩ লাখ ৪৯ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।

সহজ সরল শ্রমিকরা অভিযোগের বিষয়টি ভয়ে সাংবাদিকদের তখন জানাননি। গত মঙ্গলবার অভিযোগের শুনানীর দিন মাটিকাটার সর্দার গোপরাজ দাশ বিষয়টি সাংবাদিকদের অবহিত করেন।

এছাড়া একই ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বার চুনু মিয়া অভিযোগ করেন শীতে সরকারী কম্বল ইউনিয়নের অন্যান্য মেম্বারদের ২৭ টি করে কম্বল প্রদান করেন।

কিন্তুু তাকে কোন কম্বল দেয়া হয়নি। ফলে তার ওয়ার্ডের শীতার্ত মানুষেরা সরকারী সাহায্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। চেয়ারম্যানের স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহনের দাবী জানান তিনি।

সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মতিউর রহমান খান জানান দুটি অভিযোগেরই মঙ্গলবার শুনানী হয়েছে। কর্মসৃজনের অভিযোগের প্রয়োজনীয় তথ্য পেশ করতে ২ দিন সময় নিয়েছেন অভিযুক্তরা।

এছাড়া কম্বল বিতরণের বিষয়ে মেম্বারদের নিয়ে মিটিং করার প্রমানাধি পেশ করতে ২ দিন সময় নিয়েছেন চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন।

এসিল্যান্ড আরও জানান তদন্ত আইনি মোতাবেক হবে। তদন্তে কেউ দোষী হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান অভিযোগ হয়েছে এটি সত্যি। কিন্তুু অভিযোগে যে তথ্য দেয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি কারও টাকা আত্মসাৎ করেন নাই।

শ্রমিকদের ন্যায্য পাওয়ান তিনি সকলকে বুঝিয়ে দিয়েছেন বলে দাবী করেন।

অভিযোগটি তার মানহানি করার জন্য করা হয়েছে বলে তিনি জাননা। এছাড়া শীতার্তদের শীতবস্ত্র তিনি নিয়মানুযায়ীই বিতরণ করেছেন বলে দাবী করেন।