বক্তব্য রাখছেন অর্থমন্ত্রী।

এ বছর বাজেট বক্তব্যের আকার বিশাল সাইজের থাকছে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল । তিনি বলেন, বাজেট যে কোনো দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ, একটি বার্ষিক দলিল। এতে রাষ্ট্রের আয়-ব্যয়ের পরিকল্পনা থাকে। আগামী জুনে জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত এবারের বাজেট হবে একটি স্মার্ট বাজেট। বাজেট বক্তব্যের আকার গতানুগতিক বিশাল সাইজের থাকছে না, এটি হবে সংক্ষিপ্ত এবং টু-দ্য পয়েন্ট। তাই বলে বাজেটের আকার ছোট হবে না, বরং যে কোনো সময়ের তুলনায় এটি হবে রেকর্ড বাজেট।

২০১৯-২০ অর্থ বছরের নতুন বাজেটে থাকবে নতুন নতুন উদ্যোগ। মন্ত্রী শুক্রবার কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে লালমাই উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

ধানের দাম নিয়ে সমস্যার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, একটা সময় ছিল যখন সারা বিশ্বে খাদ্যের জন্য হাহাকার ছিল। কিন্তু বর্তমানে সারা বিশ্বেই খাদ্যের উৎপাদন অনেকগুণ বেড়ে গিয়েছে। এ বছর আমরা অনেক বেশি খাদ্যশস্য উৎপাদন করতে পেরেছি। কিন্তু এখন চালের দাম আন্তর্জাতিক বাজারেও কম। আমাদের কৃষককে বাঁচাতে হবে। তাই সরকারের পক্ষ থেকে চাল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করতে না পারলেও নিরুৎসাহিত করে সীমিতকরণ করতে পারি। সেই লক্ষ্যে আমরা চাল আমদানি নিরুৎসাহিত করতে বিদ্যমান শুল্ক ২৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫৫ শতাংশে উন্নীত করেছি।

এ সিদ্ধান্তে দেশের কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে কিছুটা রেহাই পাবেন। পাশাপাশি চাল রফতানির দিকেও আমাদের জোর দিতে হবে। প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও চাল রফতানির পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৬ সালে কৃষিখাতে ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি নেয়ার যে সাহস করেছিলেন, তখন বিষয়টি অকল্পনীয় ছিল, কিন্তু তার সুফল এখন আমরা ভোগ করছি। মন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক কৃষকের লোকসানের হাত থেকে রক্ষায় দেশের বিভিন্ন স্থানে জেলা ও উপজেলায় প্রশাসনের উদ্যোগে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা শুরু হয়েছে। এতেও কৃষকের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান উন্নয়নবান্ধব সরকার দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় যে কোনো পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।

মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা থেকে ঢাকার যাতায়াত সময় পৌনে দুই ঘণ্টার মতো হলেও কখনও কখনও এ যাত্রায় ৯ থেকে ১০ ঘণ্টাও লেগে যায়। এর কারণ ছিল অতিরিক্ত যানবাহন আর চার লেনের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুই লেনের মেঘনা ও গোমতী সেতুর নির্মাণ কাজ। অবশেষে এ ভোগান্তির অবসান করতে শনিবার মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা নদীর ওপর নির্মিত দ্বিতীয় মেঘনা সেতু ও কুমিল্লার দাউদকান্দিতে গোমতী নদীর ওপর নির্মিত দ্বিতীয় গোমতী সেতু খুলে দেয়া হয়। আর এ সেতু দুটি খুলে দিলে ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা অনেকটা নিরাপদ, যানজটমুক্ত এবং স্বস্তিদায়ক হবে এবং আমাদের অর্থনীতিকে করবে আরও গতিশীল।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন লালমাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক, সদর দক্ষিণ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

শাকিল মোল্লা/কুমিল্লা/জেবি