‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত

২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ১৫ জুন শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল আয়োজিত ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বাজেট নিয়ে সাবেক আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই বাজেট থেকে জনগণ কিছু পাবে না। একই গোষ্ঠি আজকে ব্যবসা-বাণিজ্য করছে, একই গোষ্ঠি আজকে সারা দেশ পরিচালনা করছে। অতীতে একই গোষ্ঠি সব কিছুর দায়িত্বে ছিল না।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন,‘এই সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নয়। একদিকে বাজেট দিচ্ছে, পলিসি নির্ধারণ করছে; অন্যদিকে লুট করছে। সব আজ একীভূত। সত্যিকার অর্থে যারা ভোট চুরি করে, তাদের হাতে দেশের সম্পদ নিরাপদ নয়। তাদের দ্বারা সম্পদের সুষম বণ্টন হতে পারে না।’

আমীর খসরু বলেন, ‘বাজেটে তাঁতী সম্প্রদায়ের জন্য কী রাখা হয়েছে? তাঁতী দলকে এ নিয়ে ভাবতে ও কাজ করতে হবে। তবেই আপনারা তাঁত শিল্পের লোকজনের কাছে সমাদৃত হবেন। সব অঙ্গ সংগঠনের প্রধান দায়িত্ব নিজ নিজ খাতের বিভিন্ন বিষয়ে সোচ্চার হওয়া। সারাবিশ্বে হাতে বোনা তাঁত পণ্যের চাহিদা অনেক বেশি। কিন্তু আমরা বাংলাদেশে তার মূল্যায়ন করতে পারি না। এই শিল্পের বিকাশ ঘটাতে ও বাজার ধরে রাখতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তাঁত শিল্পকে বাঁচানোর বিকল্প নেই।’

খালেদা জিয়ার বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘আজকে দেশের মানুষের কাছে সবচেয়ে বেশি স্পর্শকাতর বিষয় খালেদা জিয়ার মুক্তি। তার মুক্তির সঙ্গে সবকিছু জড়িত। মানুষ ভোটাধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার ফিরে পাবে কিনা তা নির্ভর করছে তার মুক্তির ওপর। আমাদের এক দাবি নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। সেটা হলো খালেদা জিয়ার মুক্তি। আন্দোলনে নেমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।’

দেশে কর্মসংস্থান না থাকার কারণেই বেকাররা বিদেশ পাড়ি দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ১৫ জুন শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

আফ্রিকা উপকূলে অভিবাসন প্রত্যাশীদের ভিড়ে অনেক বাংলাদেশির উপস্থিতিকে দেশে কর্মসংস্থানের অভাবের নজির হিসেবে দেখালেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে বলেই এখন ধান কাটার লোক পাওয়া যায় না।

আমীর খসরু বলেন, আজকে বাংলাদেশি তরুণরা-যুবকরা বেকারত্ব সহ্য করতে না পেরে, নিপীড়ন-নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিউনিউশিয়ার উপকূলে সমুদ্রে ভাসছে। কেন বাংলাদেশ থেকে এই যুবকরা পালিয়ে যাচ্ছে? যারা আজকে উন্নয়নের কথা বলে, তারা কি উত্তর দিতে পারবে?

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন,  যে দেশে গণতন্ত্র থাকবে না, মানবাধিকার থাকবে না, আইনের শাসন থাকবে না, গণমাধ্যমের  স্বাধীনতা থাকবে না, সেই দেশে ন্যায় বিচার হতে পারে না।

দেশের এই অবস্থা বদলাতে মুক্তির সংগ্রাম শুরু করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই বলে মন্তব্য করেন বিএনপি নেতা। এজন্য খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনে নামার আহ্বান জানান তিনি।

আমীর খসরু বলেন, `দেশের সব জায়গায় একটা অস্থিরতা বিরাজ করছে। একটি গোষ্ঠি বাংলাদেশের জনগণকে বাইরে রেখে ক্ষমতা দখল করে আছে। তাদের উদ্দেশ্য একদলীয় শাসন পুনঃপ্রবর্তন।’

জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এই আলোচনা সভায় সংগঠনের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ সভাপতিত্ব করেন এবং সদস্য সচিব মজিবুর রহমান পরিচালনা করেন। সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, তাঁতী বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম খান, উলামা দলের আহ্বায়ক শাহ নেছারুল হক ন্যাশনাল পিপলস পার্টির নেতা অহিদুর রহমান, তাঁতী দলের বাহাউদ্দিন বাহার, কাজী মনিরুজ্জামান, জাহাঙ্গীর আলম, গোলাম মঞ্জুর।

আজকের পত্রিকা/আ.স্ব