বরং আগের বেশি দামের সিগারেট ছেড়ে কম দামের ব্র্যান্ডের সিগারেট খাচ্ছেন অনেকে। ছবি : রাফাত

গত ১৩ জুন ২০১৯ তারিখ মাননীয় অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবিত বাজেটে নিন্ম, মধ্যম, উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরে সিগারেটের সম্পূরক শুল্ক অপরিবর্তিত রেখে শুধুমাত্র মূল্য পরিবর্তনের মাধ্যমে ১০ শলাকা সিগারেটের দাম যথাক্রমে ২, ১৫, ১৮ এবং ১৮ টাকা বৃদ্ধি করে
বর্তমান মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৭, ৬৩ টাকা, ৯৩ টাকা এবং ১২৩ টাকা।

কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। গত কয়েক দিনে দেশের সিগারেট বাজার খুব অস্থিতিশীল লক্ষ্য করা গেছে। ধূমপায়ীরা সিগারেট বিমুখ হননি। বরং আগের বেশি দামের সিগারেট ছেড়ে কম দামের ব্র্যান্ডের সিগারেট খাচ্ছেন অনেকে। সেই সঙ্গে রয়েছে সিগারেটের অপ্রতুলতা।

মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্ত্বরের সিগারেট বিক্রেতা নাজিম জানান, পাইকাররা সিগারেট মজুদ করে রেখে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে বাজারে সিগারেটের প্রাপ্যতা কম। তিনি আরো জানান, সিগারেট বিক্রি কমেনি বরং আগে আগে যারা বেনসন খেতেন এখন তারা গোল্ডলিফ বা স্টার লাইট বেছে নিচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন একজন ধূমপায়ী। তিনি বলেন, আমি বেনসন লাইট খেতাম। বাজেটে দাম বাড়ার পর এখন গোল্ডলিফ খাচ্ছি।

এদিকে ধূমপানবিরোধী সংগঠনগুলো বলছে , জনগণের মাথাপিছু আয়বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় না নেওয়ার ফলে নিন্ম আয়ের মানুষের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতার কোনো পরিবর্তন হবে না এবং একই সাথে নতুন তরুন প্রজন্মকে ধূমপানে নিরুৎসাহিত করা যাবে না।এছাড়াও, বিড়ির ক্ষেত্রে বাজেটে ফিল্টারযুক্ত বিড়ির দাম ১৫ টাকা থেকে ১৭ টাকা করা হয়েছে।

এদিকে ফিল্টারবিহীন বিড়িতে দাম বেড়েছে মাত্র ১.৫ টাকা। ফিল্টারাবিহীন বিড়ির প্রধান ভোক্তা নিম্ন আয়ের মানুষ। দরিদ্র মানুষের ওপর এই সামান্য মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়বেনা। ফিল্টারবিহীন ও ফিল্টারযুক্ত বিড়িতে
সম্পূরকশুল্ক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয় যার মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং বিড়ি কোম্পানির মুনাফা কিছুটা হলেও কমে আসবে। কিন্তু বাজেট প্রস্তাবনায় বিড়ির ফিল্টার এবং নন-ফিল্টার বিভাজন তুলে দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচিত হয়নি। অথচ তামাকের ব্যবহার কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে কর বৃদ্ধির মাধ্যমে
তামাকপণ্যের মূল্য বাড়ানো। উচ্চ মূল্য তরুণদের তামাক ব্যবহার শুরু করতে নিরুৎসাহিত করে এবং বর্তমান ব্যবহারকারীদের তামাক ছাড়তে উৎসাহিত করে।

আজকের পত্রিকা/এমএইচএস