বাকৃবিতে শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষকদের একাত্মতা

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) উন্নয়ন কর্মকান্ডের অর্থ-আত্নসাৎ, নিয়োগ বানিজ্য, ক্যাম্পাসে স্বৈরাচারী আচরণ, যৌন নিপীড়ন, অহেতুক শিক্ষার্থী বহিষ্কার, শিক্ষার্থীদের উপর সন্ত্রাসী হামলার মদদ দেওয়াসহ অসংখ্য অভিযোগে সদ্য উপাচার্য পদ থেকে অব্যহতি পাওয়া অধ্যাপক ড. খন্দকার মো. নাসিরউদ্দিনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ।

দীর্ঘ ১২ দিন শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলনের মুখে সোমবার পদত্যাগ করেন খন্দকার মো. নাসিরউদ্দিন। অব্যহতি পাওয়ার পরের দিন মঙ্গলবার পূর্বের কর্মস্থল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) পুনরায় যোগদানের অনুমতিসহ দুই দিনের ছুটির জন্য বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রধানের মাধ্যমে আবেদন করেন। তার বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের বিষয়ে ঘোর প্রতিবাদ জানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বাকৃবি থেকে অধ্যাপক ড. খন্দকার নাসিরউদ্দিনের অব্যহতি চেয়ে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের সামনে ঘন্টাব্যাপী ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অধ্যাপক ড. খন্দকার মো. নাসিরউদ্দিন বাকৃবির জন্য কলঙ্ক। তার কর্মকান্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। তার মতো একজন দুর্নীতিবাজ, স্বৈরাচারী, যৌন নিপীড়নকারী, শিক্ষার্থীদের উপর সন্ত্রাসী হামলায় মদদদাতা আমাদের শিক্ষক হতে পারে না। তাকে আমারা বাকৃবি থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি ও তার নিয়োগপত্র বাতিল করে বিশ^বিদ্যালয় থেকে অপসারণের দাবি জানাচ্ছি। এসময় শিক্ষার্থীদের দাবীর সাথে একমত পোষণ করে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাকৃবি রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) পরিচালক অধ্যাপক ড. এম এ এম ইয়াহিয়া খন্দকার ও সহযোগী পরিচালক ড. মুহাম্মদ মাহফুজুল হক।

এদিকে ড. খন্দকার মো. নাসিরউদ্দিনের বাকৃবিতে যোগদানের বিষয়ে আপত্তি এবং উপযুক্ত বিচারের দাবি জানিয়ে শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু হাদী নূর আলী খান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বাকৃবি শিক্ষক সমিতি। বিজ্ঞপ্তিতে অধ্যাপক ড. খন্দকার মোঃ নাসিরউদ্দিনের কর্মকান্ডের নিন্দা জানিয়ে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ বাকৃবির শিক্ষক সমাজের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। তিনি বাকৃবির বায়োটেকনোলজি বিভাগে নিজ কর্মস্থলে যোগদানের জন্য আবেদন করেছেন। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে দেশের প্রধান প্রধান জাতীয় দৈনিকগুলো সম্পাদকীয়, উপসম্পাদকীয় ও মতামত প্রকাশ করেছে, এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উপাচার্য হিসেবে তার অনিয়ম ও অনৈতিকতার উপযুক্ত বিচার না হওয়া পর্যন্ত যোগদানের বিষয়টি স্থগিত রাখার পক্ষে মত প্রকাশ করেছে। অধ্যাপক নাসিরের বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডের বিষয়ে ইউ.জি.সি-র মত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সত্যতা পেয়েছে এবং তার ভিত্তিতে তাঁকে অপসারণের সুপারিশ প্রদান করেছে। এই অবস্থায় কর্তৃপক্ষের কাছে অধ্যাপক ড. খন্দকার নাসিরউদ্দিনের উপাচার্য হিসেবে অনিয়ম ও অনৈতিকতার উপযুক্ত বিচার দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে বাকৃবির আওয়ামীপন্থি শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উনি (নাসিরউদ্দিন) বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের নেতা ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মুখোশ পরিবর্তন করে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের ফোরামে নাম লেখান। গোপালগঞ্জে বাড়ি হওয়ায় এলাকার দাপটে উপাচার্য পদ ভাগিয়ে নেন। উপাচার্য হয়েই তিনি ক্ষমতার জোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অনিয়মের রাজত্ব কায়েম করেন। বিশ্ববিদ্যালয়কে তিনি একটি পরিবারিক প্রতিষ্ঠানে রুপ দেন। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যোগ্যপ্রার্থী থাকা সত্ত্বেও পরিবার ও আত্নীয়স্বজনদের মধ্যে অন্তত ২৪ জনকে শিক্ষক, শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী, মালী, ড্রাইভার, বাস হেল্পার, সিকিউরিটি অফিসারসহ বিভিন্ন পদে চাকুরি দেন। তার এই কর্মকান্ড শুধু বাকৃবি নয় বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তিকে নষ্ট করেছে। শিক্ষকরা অধ্যাপক ড. খন্দকার মো. নাসিরউদ্দিনের বাকৃবি থেকে অব্যহতিসহ উপযুক্ত বিচারের দাবী জানান।

এই বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান বলেন, উপাচার্যের দায়িত্ব পাওয়ার আগে অধ্যাপক ড. খন্দকার মোঃ নাসিরউদ্দিন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নিবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে বাকৃবি প্রশাসন তার ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এবিষয়ে অধ্যাপক ড. খন্দকার মো. নাসিরউদ্দিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেন নি।

তানিউল করিম জীম/বাকৃবি