বক্তব্য রাখছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্ত মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার। ছবি : প্রতিনিধি

বাউল গানকে সারা বিশ্বে পৌঁছে দেয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্ত মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার। তিনি বলেছেন, ‘প্রাকৃতিক ও ভৌগলিক কারনে বাউল গানের কেন্দ্রবিন্দু নেত্রকোনা জেলা। আমাদের এই জাতীয় সম্পদ শুধু খালিয়াজুরী, মোহনগঞ্জ কিংবা নেত্রকোনার সম্পদ নয়। বাউল গান সারা পৃথিবীর সম্পদে পরিণত হয়েছে। এই সম্পদকে যাতে সারা পৃথিবীর কাছে ডিজিটালী পৌছে দেয়া যায় তার ব্যবস্থা করা হবে।

উকিল মুন্সী, জালাল খাঁ অথবা অন্য কারোর কোন নথি থাকলে তা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আমার কাছে পৌছে দিলে তার ব্যবস্থা করা হবে। আমরা পৃথিবীর কাছে তা তুলে ধরার চেষ্টা করব। যেখানে সেখানে উকিল মুন্সী এবং জালাল খাঁর জন্ম হয়না। আমাদের নেত্রকোনায় জন্ম হয়েছে। তাই আমরা চেষ্টা করব তা সংরক্ষণ করার’।

১৫ মার্চ শুক্রবার বিকেলে নেত্রকোনা মোহনগঞ্জ উপজেলার আদর্শনগর মহাবিদ্যালয় মাঠে বাউল সাধক উকিল মুন্সীর স্মরণে বাউল উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, আজকের পৃথিবীতে বাংলাদেশ সব ক্ষেত্রেই রয়েছে। আজকের বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ আকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। এই স্যাটেলাইট আগামী ১২ মে থেকে বাংলাদেশের সকল টেলিভিশন পরিচালিত হবে। ১০ বছর আগে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ৫ শত ৫০ ডলার। বর্তমানে তা ১৭ শত ৫৮ ডলারে উন্নীত করা হয়েছে। বাংলাদেশে এখন মোবাইল তৈরীর কারখানা করা হয়েছে। আগামী দিনের বাংলাদেশ সারা পৃথিবীর জন্য মানব সম্পদ তৈরী করেবে এবং সারা পৃথিবীর মেধার যোগান দেবে।

নেত্রকোনা শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় অন্য ৮-১০টি সাধারন বিশ্ববিদ্যালয়ের মত নয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় হবে বাংলাদেশের একটি শ্রেষ্ঠ তথ্য প্রযুক্তি সমৃদ্ধ বিশ্ব বিদ্যালয়। এখান থেকে যাহাতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা নিয়ে পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে কাজ করতে পারে সেই ব্যবস্থাই করা হবে।

তিনি মনে করেন, নেত্রকোনায় আইটি পার্ক করা হচ্ছে। কৃষি যোগে যেমন সমৃদ্ধ ছিল, শিল্প যোগে সেই সমৃদ্ধ পাওয়া যায়নি, ডিজিটাল যোগে সারা বাংলাদেশে নেত্রকোনা থেকে নেতৃত্ব দেয়া হবে। নতুন প্রজন্ম আগামী দিনের ভবিষ্যত। তারাই আগামী দিনে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।

কেবল মাত্র প্রচলিত শিক্ষা নয়, কেবল মাত্র পাঠ্য বইয়ের শিক্ষা নয়। জীবনকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে পাঠ্য বই এবং সিলেবাসের বাইরে যেতে হবে। বিশ্বের সাথে যুক্ত হতে অন্যতম হচ্ছে ইন্টারনেটের ব্যবহার।

তিনি বলেন, ২০২০ সালের মধ্যে নেত্রকোনার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব থাকবে। প্রতিটি ক্লাস রুম হবে ডিজিটাল ক্লাস রুম এবং সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট প্রদান করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসানের সভাপতিত্বে ২য় সাধক বাউল উকিল মুন্সী স্মরনে বাউল উৎসবের ২য় পর্বের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রফিকউল্লাহ খান, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মাহমুদ হাসান এবং ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি।

রাতে উকিল মুন্সীর স্মরণে বাউল উৎসবে প্রখ্যাত বাউল সংগীত শিল্পী মমতাজ বেগম, শফি মণ্ডলসহ স্থানীয় শিল্পীগণ সংগীত পরিবেশন করেন।

দেবল চন্দ্র দাস/নেত্রকোনা