মাহমুদ উল্লাহ্‌
বিজনেস করেসপন্ডেন্ট

রসালো আম ও গরুর মাংস। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপি বাংলাদেশের বিভিন্ন ফল, বিশেষ করে আমের স্বাদ ও পুষ্টিগুণের সুনাম রয়েছে। অন্যদিকে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে গরুর মাংসের দামও বেশ কম। এসব দিক বিবেচনা করে এ দুটি পণ্য বাংলাদেশ থেকে কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনা। এছাড়া বাংলাদেশের কৃষির সঙ্গে কাজ করতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করবে।

১৫ জুলাই সোমবার  কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাকের সাথে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আর্জেন্টিনার কৃষি ও শিল্প সচিব লুইস মিগুয়েল ইচাভেহের সাথে বৈঠকে এসব প্রস্তাব দেন।

কৃষি মন্ত্রী বলেন, আমরা দেশটির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাব পেয়েছি। তাদের প্রস্তাব আমরা সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিবেচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমাদের কৃষি বিজ্ঞানী, গবেষক সর্বোপরি কৃষকদের পরিশ্রমের ফসল আজ কৃষি উৎপাদনে বাংলাদেশ উচ্চস্থান দখল করে আছে। আমাদের প্রধান ফসল ধান হলেও দেশে এখন গম ও ভুট্টাও চাষ হচ্ছে। ভুট্টা আমাদের পোলট্রি শিল্পের প্রধান খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং এর বড় একটি অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়, আমাদের লক্ষ্য আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আনা।

তিনি বলেন, দেশে বিভিন্ন ধরনের ফলেরও প্রচুর উৎপাদন হচ্ছে বাংলাদেশে। আন্তর্জাতিক বাজারের অভাবে বিক্রি করতে পারছে না কৃষকরা স্থানীয় বাজারে এগুলোর দাম উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কম।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা অধিক লাভজনক শস্য উৎপাদনের দিকে যাচ্ছি। তিনি বলেন, আধুনিক কৃষির জন্য খাদ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাত ও বাণিজ্যিকরণ এবং যান্ত্রিকিকরণ অপরিহার্য। মোট কথা আধুনিক ও বাণিজ্যিক কৃষির জন্য বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার কাজ করছে। কৃষিকে শতভাগ যান্ত্রিকীকরণের যা যা করা দরকার সরকার সব করবে।

আর্জেন্টিনার সচিব বলেন, বাংলাদেশ অনেক সুন্দর ও সম্ভাবনাময়। বাংলাদেশে সবচেয়ে কম দাম গরুর মাংস। আর্জেটিনা অতি শিগগিরই বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল এর সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করবে। দেশটির মোট আবাদি জমির পরিমাণ ২৭ কোটি ২ লাখ হেক্টর। বিশ্বে ৪১টি পণ্য রফতানি করে করছে । ১৯৯৬ সাল হতে বাণিজ্যিকভাবে জিএমও শস্য আবাদ করে থাকে, জিএমও শস্যে অবস্থান তৃতীয়। আর্জেটিনা বাংলাদেশের কৃষিখাতে পূর্ণ সহযোগিতা করতে আগ্রহী। বিশেষ করে কারিগরি ও গবেষণা ক্ষেত্রে। বাংলাদেশের আম পেপে বেশ সুস্বাদু, বিধায় সেটিও আমদানি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল চুবুরু, এ্যগ্রো-ইন্ডাট্রিয়াল মার্কেট এর যুগ্মসচিব জেসুস সিলভেরিয়া, টোবিয়াস ডি মার্কোস, আর্জেন্টিনার চেম্বার অব দি অয়েল ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড এক্সপোর্টারস (সিআইএঅঅরএ-সিইসি) ও উপদেষ্টা ম্যারিয়ানো বিহেরান এবং টোবিস ডি মার্কোস. বাংলাদেশের পক্ষে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান, অতিরিক্ত সচিব আ. রউফ, আশ্রাফ উদ্দিন আহমেদ, আরিফুর রহমান অপুসহ সংস্থার প্রধানগণ।

বৈঠক শেষে অতিথিদের নিয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক নৈশ ভোজে অংশগ্রহণ করেন। নৈশ ভোজে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
পাঠকের মতামত

আজকের পত্রিকা/এমইউ