বাংলাদেশের ৮৭% মানুষ নিরাপদ পানি পান করে। ছবি: সংগৃহীত

লেক খননের কাজ শুরু হয়েছে রাজধানীর কড়াইল বস্তির পাশে। কাজেই বাঁধ দেওয়া হয়েছে লেকের ভিতরে। যে বাঁধের পাশ দিয়ে বস্তির দিকে আগালেই নাকে আসে তীব্র দুগর্ন্ধ। উন্মুক্ত পায়খানা চারদিকে। কড়াইল বস্তিতে খাওয়া, গোসলসহ যাবতীয় কাজ হয় সাপ্লাইয়ের পানিতে। সপ্তাহের শুক্রবারেই পড়তে হয় পানির সংকটে। তাছাড়াও নোংরা, গন্ধযুক্ত পানি আসে সাপ্লাইতে। আধা ঘন্টা পর আসে পরিষ্কার পানি। তারপর আর সেটাকে কেউ ফুটিয়ে নেয় না।

এসডিজিতে বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহে দক্ষিণ এশিয়ার নয়টি দেশের মধ্যে নিচের দিকে অর্থাৎ দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ। দেশটির ৮৭ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি পান করে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে আফগানিস্তান। দেশটির মাত্র ৫৫ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি পান করে।

বিভিন্ন এনজিওকর্মী ও সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে চাপকল ও পায়খানা পৌছে দেওয়ার পরও এই খারাপ অবস্থার জন্য দায়ী জনগনের অসচেতনতা । বিশেষজ্ঞগনদের মতে, গ্রামাঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক থাকা, নদী-নালা, খাল-বিল কমে যাওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলের পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়া এবং শহরাঞ্চলে পানির লাইনের সঙ্গে পয়ঃনিষ্কাশনের লাইন মিশে যাওয়া বাংলাদেশের পানি দূষনের অন্যতম কারণ। তাছাড়া ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার ভূমিধসে ভূমিকা রাখে বলেও বিশেষজ্ঞরা দাবী করেছেন।

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, ‘আমাদের খাবার পানির প্রধান উৎস হচ্ছে ভূগর্ভস্থ জলাধার। যদি গ্রামের দিকে তাকাই, তাহলে সেখানে সমস্যাটা হচ্ছে পানিতে আর্সেনিক। যদি উপকূলীয় অঞ্চলের দিকে তাকাই, সেখানে আর্সেনিক ও লবণাক্ততা রয়েছে। যেহেতু আমাদের মিঠাপানির উৎস কমে যাচ্ছে; নদী-নালা ভরাট হচ্ছে, নদীর নাব্যতা কমে যাচ্ছে, স্রোত কমে যাচ্ছে – এসব কারণে আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলের পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাচ্ছে। ওই পানি খাওয়া যায় না, চাষাবাদও করা যায় না।’

নগরের পানি দূষন সম্পর্কে আব্দুল হামিদ বলেন, ‘শহরও ভূগর্ভস্থ পানির মাধ্যমে চলছে। এখানে সমস্যা হলো, পানি সরবরাহের লাইনের সঙ্গে অনেক সময় নর্দমার (সুয়ারেজ) লাইন মিলে যায়। এটা বড় সমস্যা। এছাড়া লাইনগুলো অনেক পুরনো, ফলে ময়লাও থাকে।’

বাংলাদেশ কেন বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করছেনা এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমরা জানতাম যে, ভালোই করছি। আমরা শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ মানুষের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে পেরেছি, চাপকল পৌঁছে দিতে পেরেছি। শতকরা ৭০-৮০ ভাগ মানুষকে স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন (শৌচাগার) দিতে পেরেছি। এটা শুধু দেয়ার বিষয় নয়, যাকে দিচ্ছি তার সচেতনতার একটা বিষয়ও আছে।’

পানি দূষণের মাত্রা কমাতে এবং সুপেয় পানির পরিমান বাড়াতে নদনদী সংরক্ষণ করতে হবে। বৃষ্টির পানি পরিষ্কার পাত্রে জমা করতে হবে। পৃথিবীর ১০ ভাগ সুপেয় পানির মালিক বাংলাদেশ। জাতি হিসেবে অত্যন্ত কামেল হওয়ার কারণে যা আমরা অবহেলায় হারাচ্ছি। জনগনের সচেতনতা বাড়াতে হবে। নিরাপদ পানি সংরক্ষণের প্রক্রিয়া গনমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে আরো ব্যাপক হারে পানি দূষন আটকানোর চেষ্টা করতে হবে৷

আজকের পত্রিকা/কেএইচআর/সিফাত