বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি : সংগৃহীত

সরকার বারবার বোঝাতে চাচ্ছে, বাংলাদেশের এমন উন্নয়ন হয়েছে যা অতীতে কখনও হয়নি। পৃথিবীর কাছে আজকে তা একটি রোল মডেল কিন্তু আসলে এই উন্নয়নের ভেতরটা ফাঁকা। এই উন্নয়ন হলো দুর্নীতির উন্নয়ন। এই উন্নয়নের ফলে কিছু সংখ্যক মানুষ ধনী থেকে ধনী হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২৫ মার্চ সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিউট ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর আবারও নির্যাতন নিপীড়নের মধ্য দিয়ে ছদ্মবেশে একটা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছে সরকার। আজকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিপন্ন, সার্বভৌমত্ব বিপন্ন।

স্বাধীনতা দিবসে নেতাকর্মীদের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করা। তাকে মুক্ত করলেই গণতন্ত্র মুক্ত হবে। আসুন সকল অঙ্গ সংগঠন, সহযোগী সংগঠন আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রীকে মুক্ত করি, গণতন্ত্রকে মুক্ত করি।’

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘প্রতিদিন উনার শরীর খারাপের দিকে যাচ্ছে। কিন্তু এই সরকার তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে না।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালের যে চেতনা, যে আদর্শকে সামনে নিয়ে এদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এবং তা অর্জন করেছিল সেই মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা তা আজ ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। স্বাধীনতার অর্থ শুধু একটি পতাকা নয়, ভূখন্ড নয়। স্বাধীনতার অর্থ হচ্ছে এই ভূখন্ড যারা বাস করে। তাদের সার্বিক দিক থেকে স্বাধীনতা, তাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, রাজনীতিক স্বাধীনতা এবং তাদের মুক্তির স্বাধীনতা। বর্তমান সরকার জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। এদেরকে সরানো ছাড়া দেশের মানুষের মুক্তি সম্ভব নয়।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস-চেয়ারম্যান মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দীন আহমেদ বীর বিক্রম, নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ।

আজকের পত্রিকা/আ.স্ব/