বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ খুব দ্রুত গতিতে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। যদিও উন্নয়নের পথে প্রধান বাধা দুর্নীতি এখনও বিরাজমান। সরকার ইতোমধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে। এ অভিযানে সরকারি দলের অনেকেই ধরাশায়ী হয়েছে।

উন্নয়ন একটি দৃশ্যমান বিষয়। যেমন পদ্মা সেতু এখন মনের চোখেই ধরা পড়ছে। এ রকম অনেক উন্নয়ন যেমন রাস্তাঘাট, কলকারখানা, সেতু, ভবন বিভিন্ন বিষয় সকলই দৃশ্যমান।

নতুন রেললাইন স্থাপিত হলে এর সুফল সবাই পায়। এখানে নতুন কর্মসংস্থান হয়। এর সুফল সবাই পায়।

একটি এলাকায় কাপড়ের কল স্থাপিত হলে তাতে ঐ এলাকার শিক্ষিত, অশিক্ষিত সকলেরই কর্মসংস্থান হয়। এভাবে বেকারের সংখ্যা কমে আসে। মানুষের জীবন-যাত্রা উন্নত হয়। বাংলাদেশে এখন এ ধরনের উন্নয়ন প্রয়োজন। কারণ বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। নারী-পুরুষ উভয়ই বেকার থাকছে। মেয়েরা এখন দ্রুত শিক্ষিত হচ্ছে। তারা ঘরের বাইরে চলে আসছে। তারা পরিবারের হাল ধরছে। সুতরাং, উন্নয়ন এমন হতে হবে যাতে নারী-পুরুষ উভয়েরই কর্মসংস্থান হয়। এখানে যদি দুর্নীতি প্রবেশ করে তাহলে এ কর্মসংস্থান হবে না। কর্মসংস্থান না হলে বেকারত্ব এবং দারিদ্রতা বাড়বে। বেকারত্ব বাড়ার সাথে দারিদ্রতার সম্পর্ক আছে। অনেক প্রকল্প শেষ হয় না। মাঝ পথেই এটা থেমে যায়। এর কারণ হচ্ছে দুর্নীতি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি বলেছেন, উন্নয়নের অর্থ কোথায় যায় তা খোঁজা হচ্ছে। এর অর্থ হচ্ছে উন্নয়নের অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পকেটস্থ হয়েছে। কোনো ভাবেই উন্নয়নের অর্থ আত্মসাৎ করতে দেয়া যাবে না। যারা আত্মসাৎ করছেন তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক।

যেমন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি উন্নয়ন প্রকল্প থেকে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এখানে একটি ছাত্র সংগঠনের চাঁদাবাজির কথা বলা হচ্ছে। এর তদন্ত হোক তাই চাই।

এ রকম বহু ঘটনা দেশে ঘটছে। আমরা আশা করব সরকার এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন। আমরা জনগণ অসহায়। আমরা শুধু সরকারকে সমর্থন করতে পারি। আমরা তাই করছি।

লেখক : মো. এমদাদুল হক
সাবেক প্রধান শিক্ষক, ইসলামী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, মিরপুর ২, ঢাকা