দখলকৃত একটি বাড়ি

বাঁশখালীর জঙ্গল পাইরাং ও জঙ্গল জলদী দুই গ্রামের ভূমিদস্যু ও বনদস্যু হিসেবে পরিচিত মো. কামাল উদ্দিন প্রকাশ মইষ কামাল। সে সরল ইউনিয়নের জঙ্গল পাইরাং গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর পুত্র।

বনের জায়গা দখল করে বিক্রয়, সামাজিক বনানয়নের জায়গা দখল করে বিক্রয়, সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সামাজিক বনায়নের গাছ নির্বিচারে কেটে বিক্রয় যেন এর পেশা। পাশাপাশি মানুষের বন্দোবস্তি জায়গা ঘেরাবেড়া দিয়ে দখল করে তান্ডব চালিয়ে দখল করাও তার পেশা। ভুক্তভোগী গ্রামবাসী ও বন কর্মকর্তারা মামলা দিলেও সরকারি সম্পদ বিক্রয়ের অবৈধ টাকা ছিঁটিয়ে জামিনে এসে কতিপয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাদের হাত করে দ্বিগুণ উৎসাহে জায়গা দখল, গাছ কর্তন, বনদখল চালিয়ে যায়।

জঙ্গল পাইরাং গ্রামের বাসিন্দা ভূমি কর্মকর্তা ফনীন্দ্র লাল দত্ত বলেন, মো. কামাল উদ্দিন প্রকাশ মইষ কামালের বিরুদ্ধে বন মামলা, সন্ত্রাসী মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলা আছে। আমি চাকরি সূত্রে গ্রামের বাইরে থাকি, সে জোর করে দলবল নিয়ে জঙ্গল পাইরাংয়ে আমার ৪০ শতক জায়গার মধ্যে ১২ শতক জায়গা দখল করে ঘর-বাড়ি নির্মাণ করে ফেলেছে। এছাড়া স্থানীয় মোহাম্মদ সেলিম নামের এক ব্যক্তিকেও আমার ১২ শতক জায়গা নিজের জায়গা বলে কোনরুপ কাগজপত্র ছাড়া বিক্রয় করেছে। এভাবে এলাকায় ২০/২৫জন ব্যক্তিকে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জায়গা দখলে বিক্রয় করে ২শতক পতি ১ লাখ/ ২ লাখ টাকা আদায় করছে।

এভাবে দল গঠন করে জায়গা দখল ও আমার গাছপালা কেটে ফেলেছে। আমি প্রশাসনের বিচার দিয়েও বিচার পাচ্ছি না। থানা পুলিশ বেশ কয়েকবার বিচার করলেও কোনরুপ কাগজ দেখাতে পারেনি। পুনরায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তারকে অভিযোগ দিয়েছি। তিনি অভিযোগটি পুলিশকে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বিষয়টি জরুরী ভিত্তিতে তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। ওই নির্দেশের প্রেক্ষিতে এস আই মো. হাবিবুর রহমান তদন্ত করলেও ভূমিদস্যু কামাল উদ্দিন কোনরুপ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

সামাজিক বনায়নের ভুক্তভোগী মো. আলী, মো. জাফর, ফারজানা আক্তারসহ অনেকে বলেন, সামাজিক বনায়নের জায়গায় গাছ কেটে নিজের জায়গার মত করে স্থানীয় পাহাড়ি কৃষকদের মুলা, বেগুন, টমেটো, শিমসহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেত হিসেবে সে বর্গা লাগিয়েছে। প্রতি কৃষকের কাছ থেকে ৫ হাজার/ ১০ হাজার টাকা আদায় করছে। ফলে সামাজিক বনানয়নের একটি গাছও নেই ৩৫একর জায়গার। বনবিভাগের কর্মকর্তারা ওই বনদস্যুকে মামলা দিয়ে কাবু করতে পারছে না। মামলা থেকে জামিনে এসে বিভিন্নভাবে বন কর্মকর্তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পুনরায় জায়গা দখল ও গাছ কাটা শুরু করে।
চেচুরিয়া বনবিটের সাবেক বন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, বনদস্যু ও ভূমিদস্যু কামাল উদ্দিনের অত্যাচারে আমি আতংকে ছিলাম। বনবিভাগ থেকে মামলা করেও তার অপরাধ বন্ধ করতে পারিনি। সামাজিক বনানয়নভুক্ত সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে তাকে দমন করতে হবে। মুলতঃ তার অত্যাচারেই আমি ওই বনবিট থেকে বদলি হয়ে অন্যত্র এসেছি।
চেচুরিয়া বনবিটের বর্তমান বন কর্মকর্তা রমজান আলী বলেন, ‘ সামাজিক বনানয়ন ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলে কতিপয় বনদস্যুরা জায়গা দখল ও গাছ কেটে পাহাড়ি পরিবেশ বিষিয়ে তুলেছে। এসব বনদস্যুদের দমন করতে সম্মিলিত উদ্যেগ ছাড়া কিছুতেই সম্ভব নয়।
সরল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রশিদ আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘ মইষ কামালের ইদানিং দখল করা জায়গা ভূমি কর্মকর্তা ফনিন্দ্র লাল দত্তের । আমি কামালকে ওই জায়গা ছেড়ে দিতে বলেছি।’

বাঁশখালী পৌরসভার মেয়র সেলিমুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ মইষ কামাল ফনিন্দ্র লাল দত্তের জায়গা দখল করে ঠিক করেনি। ফনিন্দ্র লাল দত্ত চাইলে আমিও কামালের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেব।’

বাঁশখালী থানার এস আই মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ ভূমি কর্মকর্তা ফনিন্দ্র লাল দত্তের দখল করা জায়গার ব্যাপারে মো. কামাল উদ্দিন কোন ধরণের কাগজ দেখাতে পারেনি। তদন্তে গ্রামবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগে জানা গেছে মো. কামাল উদ্দিনের নেশা ও পেশা হচ্ছে ভূমিদস্যুতা ও বনদস্যুতা।’

অভিযুক্ত কামাল উদ্দিন বলেন, ‘ সরকারি খাস জায়গা আর বনবিভাগের জায়গা কোন ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা নয়। আমি সরকারি ও বনবিভাগের জায়গা দখল করেছি। কিছু করে চলতে হবে। আমি জায়গা দখল করে বাঁচতে চাই। এটা কোন দোষের নয়।’