বসন্তের সাজে নারীরা।

শীতের শুকনো বিবর্ণ সময় পেরিয়ে প্রকৃতিতে লেগেছে রঙ ও প্রাণের ছোঁয়া। হাজারো বাহারি ফুলে ভরে উঠেছে প্রকৃতি। নাগরিক জীবনেও লেগেছে ফাগুনের মাতাল হাওয়ার স্পর্শ। ১৩ ফেব্রুয়ারি পহেলা ফাল্গুন। সূর্য ওঠার সাথেই হেসে উঠলো ঋতুরাজ বসন্ত ভালোবাসার এই বসন্তকে উদযাপন করতে চুয়াডাঙ্গা জুড়ে তাই নানা আয়োজন। বসন্তের প্রথম দিনে জেলাবাসী মেতে উঠেছে বসন্ত বরণে।

বসন্তকে বরন করতে সকাল থেকে বিভিন্ন বয়সী ছেলে মেয়েরা বিচ্ছিন্নভাবে নানা আয়োজনে ব্যস্ত থাকলেও বিকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে দৃষ্টিনন্দন শোভাযাত্রায় যোগ দেয় তারা। জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে বের হওয়া গোটা শোভাযাত্রা জুড়েই যেন লেগেছিল হলুদ রঙয়ের ছোঁয়া। নারীরা নিজেদের বসন্তের সাজে সাজাতে খোপায়-গলায়-মাথায় পরেছে গাঁদা ফুলের মালা। হাতে রেশমি চুড়ি আর পরনে বাসন্তী রঙ্গের শাড়ি। বসন্ত উপলক্ষে পুরুষদের পরনেও শোভা পাচ্ছে রঙিন পাঞ্জাবি, ফতুয়া। সব মিলিয়ে প্রকৃতি আর মানুষ বসন্তের আমেজে মিলেমিশে একাকার। শোভাযাত্রায় যোগদেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন, জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস, পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরের প্রধানরা।

শোভাযাত্রা শেষে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের টেনিস গ্রাউন্ডে বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ আয়োজন করে বসন্ত উৎসবের। উৎসবের শুরুতেই বসন্তের গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। পরে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বরেণ্য শিল্পীদের নানা পরিবেশনায় মুখরিত হয় টেনিস গ্রাউন্ড চত্বর। চলে রাত পর্যন্ত। একই সাথে চলে পিঠা উৎসবও। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ১৬১ রকমের নানান স্বাদের পিঠা স্থান পায় বসন্ত উৎসবে।

শামসুজ্জোহা পলাশ/চুয়াডাঙ্গা