প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ের সামনে জলাবদ্ধতা। ছবি : সংগৃহীত

বাংলা পঞ্জিকা মাফিক আষাঢ় চলে এসেছে। চলছে বর্ষাকাল। বাঙালির সাহিত্য গানে রয়েছে বিপুল পরিমাণ বর্ষাবন্দনা। কিন্তু প্রকৃৃতির এই আশির্বাদ উপভোগের কোনো সুযোগ নেই ঢাকাবাসীর। এ মৌসুম ঢাকাবাসীর কাছে এক আতঙ্কের সময়। সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় পুরো শহর।

প্রতি বছর বর্ষায় সিটি করপোরেশন এবং ওয়াসা জানায়, আগামী বছর কোনো জলাবদ্ধতা থাকবে না। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনো কর্তৃপক্ষের আগাম উদ্যোগ চোখে পড়েনি এখনও। তাই প্রতিবারের মতো এই বর্ষায়ও ঢাকা প্লাবিত হবে।

ঢাকার মিরপুর, ধানমন্ডি, শান্তিনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দূর করতে ডিএসসিসি প্রতিবছরই বড় অঙ্কের টাকা খরচ করছে। আর ঢাকা ওয়াসা সেগুনবাগিচা বক্স কালভার্ট ও গভীর নর্দমা পরিষ্কারে সরকারের কাছ থেকে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের থোক বরাদ্দ। গত ২০১৫ সাল থেকে ব্যাপকভাবে এই প্রক্রিয়া চলছে। ডিএসসিসি এই সময়ে খরচ করছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। আর ওয়াসা গত তিন বছরে এই খাতে খরচ করছে প্রায় ৮০ কোটি টাকা। তবে জলাবদ্ধতা নিরসন হয়নি।

আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ঢাকায় জলাবদ্ধতা সহনীয় মাত্রায় রাখতে গত ফেব্রুয়ারি থেকে সেগুনবাগিচা বক্স কালভার্ট ও গভীর নর্দমা পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছে ঢাকা ওয়াসা।


এসো হে আষাঢ় ছাতায় তোমায় বরণ করি। ছবি : সংগৃহীত

অন্যদিকে দুই সিটি করপোরেশনও জলাবদ্ধতা রোধে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে সংস্থাগুলোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মতে, এবারও ঢাকার অনেক স্থানে জলাবদ্ধতা থাকবে। কারণ ভারী বৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে পানি ধারণ করার জন্য শহরে উপযুক্ত জলাধার নেই। আর ভারী বৃষ্টির পানি টেনে নেওয়ার পাম্পগুলোর ক্ষমতাও সীমিত।

ঢাকা ওয়াসার ড্রেনেজ বিভাগের সূত্রমতে, ফেব্রুয়ারি থেকে আসন্ন বর্ষায় জলাবদ্ধতা রোধের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু ভারী বৃষ্টি হলে মতিঝিল ও আশপাশে এবং মৌচাক ও আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না। আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছনে বিশাল জায়গাজুড়ে জলাধার ছিল। বৃষ্টির পানি সেখানে গিয়ে জমা হতো। পরে বিভিন্ন খাল দিয়ে সেই পানি পৌঁছাত বালু নদে। এখন এসব খাল ভরাট ও দখল হয়ে গেছে। পরিষ্কার করলেও অল্প ‌দিনেই আবার আবর্জনায় ভরে যায়। ফলে ভারী বৃষ্টির পানি বিভিন্ন সড়কেই আটকে থাকে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সূত্র মতে, মতিঝিল ও আশপাশের এলাকার বৃষ্টির পানি টেনে নিতে পাম্পস্টেশনের যে ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন, তা নেই।

ডিএসসিসি প্রতিবছরই জলাবদ্ধতা রোধে বিস্তর টাকা খরচ করছে। এর মধ্যে গত বছর মেগা প্রকল্পের আওতায় পুরানা পল্টন, বিজয়নগর, কাকরাইল, শান্তিনগর, রাজারবাগ, মৌচাক, মালিবাগসহ আশপাশ এলাকায় ৭০ কোটি টাকা খরচ করে ১২ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ করেছে ডিএসসিসি। এ ছাড়া নর্দমা পরিষ্কারের জন্য ১৮ কোটি টাকায় দুটি যন্ত্রও কেনা হয়। এর আগে ২০১৫ থেকে দুই বছরে বিভিন্ন প্রকল্পে খরচ করে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। ঢাকা ওয়াসাও গত তিন বছরে সরকার থেকে ৮০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ নিয়ে বক্স কালভার্ট ও নর্দমা পরিষ্কার ও খাল খননে খরচ করে।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কিছু এলাকায় এবার জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সমস্যাটি পুরোপুরি নিরসন হবে না। গুলশানে ডিএনসিসি পর্যাপ্ত গভীর নর্দমা নির্মাণ করেছে। বাড্ডায়ও করেছে। আগারগাঁওয়ে কিছু কাজ বাকি। এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তবে মিরপুর এলাকায় জলাবদ্ধতা হবে।

আজকের পত্রিকা/এমএইচএস