বর্ণাঢ্য আয়োজনে ইবিতে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনে উৎসবমুখর পরিবেশে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার দিনব্যাপী ৪১তম এই প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করা হয়। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

ক্যাম্পাসকে সাজানো হয় মনোরম সাজে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবন ও হল আলোক সজ্জা  করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রভৃতি।

কর্মসূচির মধ্যে ছিল সকাল ৯টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিশ্বিবিদ্যালয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হলসমূহে পতাকা উত্তোলন এবং উদ্বোধনী সংগীতের মধ্য দিয়ে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী দিনব্যাপী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে সকাল ১০টায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন হল থেকে শোভাযাত্রা বের করেন। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে মিলিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, ছাত্র-ছাত্রী, বিএনসিসি ও রোভারস্ ইউনিটের সদস্যরা র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেন।

এসময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ শাহিনুর রহমান, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোঃ সেলিম তোহা, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মোঃ মাহবুবর রহমান, আইআইইর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ মেহের আলী, ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ শাহাদৎ হোসেন আজাদ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

পরে প্রশাসন ভবন চত্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১তম জন্মদিনের কেক কাটেন তারা।

এরপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় ্উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে ইসলামী বিশ্বিবিদ্যালয়। যে মহামানবের জন্য না হলে বাঙালি জাতি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেতো না সে মহামানবের অনিন্দ্যসুন্দর ম্যুরাল আমরা ইসলামী বিশ্বিবিদ্যালয় স্থাপন করেছি যাতে এই বিশ্বিবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে এই মহামানবের মহান আদর্শ সঞ্চারিত হয়।

বর্তমান প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণের পর ৯টি অত্যাধুনিক বিভাগ খোলা হয়েছে। এই বিশ্বিবিদ্যালয় এর ৪০ বছরের ইতিহাসে অবকাঠামোগত উন্নয়নে একটি পরিবর্তন এসেছে। এখানে ৫ শত ৩৭ কোটি টাকার মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এজন্য আমরা ২০ হাজার মানুষের এই  বিশ্বিবিদ্যালয় এর পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে কৃতজ্ঞতা জানাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুকন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে।

ইসলামী বিশ্বিবিদ্যালয় জ্ঞানচর্চা, জ্ঞান বিতরণ এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টির একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নবজন্ম লাভ করেছে। আমরা এখানে ৩৪টি বিভাগের প্রতিটি বিভাগকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের দুর্গ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

বাদ জুম্মা বিশ্বিবিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উনśতি, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন বিশ্বিবিদ্যালয় কতৃপক্ষ।

-হুমায়ুন কবীর জীবন