গুলশানের ডিএনসিসি মার্কেটে আগুন । ইনসেটে-লেখক সাংবাদিক আকরামুল ইসলাম।

রাজধানী ঢাকা এখন আতঙ্কের শহর। আগুনের দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে। পুরান ঢাকা থেকে বনানী, বনানী থেকে গুলশান। লাশের পর দগ্ধ বিকৃত লাশের সারি সারি মিছিল। স্তব্ধ করে দিয়েছে বিবেকবান মানুষদের। প্রশ্ন এখন এমন ঘটনার শেষ কোথায় ? অনিরাপদ রাস্তাঘাটের পর এখন বাসাবাড়ি, অফিস আদালত, কর্মস্থলগুলো। মানুষ এখন যাবে কোথায় ? বনজঙ্গলে বাঘের ভয় শহরে আগুনের।

মানুষ নিরাপত্তা চায়, বেঁচে থাকার গ্যারান্টি চায়। রাজনৈতিক সহিংসতা আর দ্বন্দ্বের দাবানলে প্রাণ হারায় সাধারণ মানুষ। আমরা সাধারণ মানুষ ক্ষমতার আধিপত্য চাই না, আমরা চােই নিরাপদে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসার নিশ্চয়তা।

রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এখন শিথিল তবে আগুন অস্থিতিশীল করে তুলেছে চারপাশ। কখনো রাজনৈতিক আগুন আবার কখনো অপরিকল্পিত নগরায়ণে মানুষ্যসৃষ্ট আগুন। এভাবেই নাভিশ্বাস হচ্ছে মানুষ। মনে আতঙ্ক কখন নিজের বাসা আর অফিসটিও অগ্নির কবলে পড়ে। অস্থিরতা কর্মস্থলসহ বাসা বাড়িতেও। দিনের কষ্ট শেষে রাতের নিরাপদ ঘুমও নেই আতঙ্কে।

আগুনে জ্বলে একের পর এক মানুষ প্রাণ হারানোর দায় রাষ্ট্র কিভাবে দেখছেন। অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কতটা জরুরী পদক্ষেপ সেটিও এখন মানুষ জানতে চায়। সেই সঙ্গে জানতে চায়, পরিস্থিতি এতদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলো কেন ? সরকারি দপ্তরগুলোতে বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা কর্তা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ঘটনা ঘটার পর সচেতনতার উপর জোর দেন, তবে সেটিও শেষ পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান করেন না।

সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ মানুষদের নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকা সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর। দেশকে আধুনিকায়নের চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। ডিজিটাল যুগে প্রবেশের পরও আধুনিকায়নের অভাবে ভুগছে মানুষদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন বাহিনীর। বর্তমান সময়ের একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর জানা গেলো ফায়ার সার্ভিসেরও পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির অভাব। সেগুলো থাকলে হয়তো কিছু মানুষকে জীবিত বাঁচানো সম্ভব হতো।

বাস্তব ঘটনা এমন হচ্ছে, রাস্তায় দূর্ঘটনায় অনেকের প্রাণ হারানোর পর বলা হয়, গাড়ির ফিটনেস ছিলো না, চালকের লাইসেন্স নেই। আগুনে মানুষ পুড়ে মারা যাওয়ার পর বলা হয়, ভবনের নকশায় ক্রুটি, এত তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন নেই। ভুল চিকিৎসায় মারা যাওয়ার পর তদন্তে মেলে ক্লিনিকের লাইসেন্স নেই।

এসব কথাগুলো এখন সাধারণ মানুষদের মুখে মুখে। তারা আর ঘটনা ঘটার পর তদন্ত প্রতিবেদনে এসব পড়তে আগ্রহী নয়। রাজধানী ঢাকার চেয়ে নিরাপদ এখন জেলা শহর বা গ্রামাঞ্চল। সেখানকার মানুষরা এখনো আগুনে পুড়ে মরার আতঙ্কে নির্ঘুম রাত আর উদ্বেগ উৎকন্ঠায় থাকেন না।

আকরামুল ইসলাম/সাংবাদিক, সাতক্ষীরা