বজ্রপাত। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে এপ্রিল থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত অনেক ঝড়-তুফান ও বৃষ্টিপাত হয়। এর সাথে থাকে কালবৈশাখীর থাবা। এ সময় বজ্রপাতে অনেক মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন। প্রতি বছর শুধু বজ্রপাতে দেশের বিভিন্ন জেলায় অনেক প্রাণহানি ঘটছে।

বজ্রপাত থেকে বাঁচতে রাসূল (সাঃ) আমাদের দোয়া শিখিয়ে দিয়ে গেছেন, যা প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরই জানা উচিত। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মেঘের গর্জন ও বজ্রপাতের শব্দ শুনতেন তখন এই দোয়া পড়তেন-

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লা তাক্বতুলনা- বিগাদাবিকা ওয়া লা তুহলিকনা- বিআ’জা-বিকা ওয়া আ’-ফিনা- ক্বাবলা জালিক।(মুসনাদে আহমাদ তিরমিজি)

অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে তোমার রোষের দ্বারা হত্যা করো না; তোমার শাস্তির দ্বারা আমাদেরকে ধ্বংস করো না; বরং এর পূর্বেই আমাদেরকে প্রশান্তি দান করো।

এ দোয়ার তাৎপর্য হচ্ছে যখন আকাশে প্রচণ্ড বজ্রপাত হচ্ছে এবং আপনি বিপদে পড়েছেন তখন ইখলাসের সহিত এ দোয়া পড়লে মুসলিম জাতিকে বজ্রপাতের ভয়াবহতা ও ক্ষতি থেকে আল্লাহ রক্ষা করবেন।

তাছাড়া এ সময় আরও কিছু সতকর্তামূলক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত:-

১. বজ্রপাতের সময় গাড়ির ভেতর অবস্থান করলে গাড়ির ধাতব অংশের সাথে শরীরের সংযোগ ঘটাবেন না। প্রয়োজন হলে গাড়ি থেকে নেমে আশ্রয় নিন।

২. ঘন কালো মেঘ দেখা দিলে অতি জরুরি প্রয়োজনে রাবারের জুতা পরে বাইরে বের হতে পারেন। তাহলে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কম থাকবে।

৩. বজ্রপাতের সময় ঘরের জানালার কাছে উঁকিঝুঁকি মারা থেকে বিরত থাকুন।

৪. বজ্রপাতের সময় গাড়িতে থাকলে দ্রুত বাড়িতে ফেরার চেষ্টা করুন।

৫. বজ্রপাতের সময় বিদ্যুতের খুঁটিতে বিদ্যুৎস্পর্শের আশঙ্কা বেশি থাকে। এ সময় খুঁটির কাছাকাছি থাকা নিরাপদ নয়।

৬. বজ্রপাত ও ঝড়ের সময় বাড়ির ধাতব কল, সিঁড়ির রেলিং, পাইপ, জানালার গ্রিলসহ যে কোনো ধাতব পদার্থ সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকুন।

আজকের পত্রিকা/ইউসুফ পারভেজ/সিফাত/জেবি