মরদেহ দেখতে ভিড়

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আমিরপুর গ্রামে স্কুলছাত্রী ভাগ্নীকে শ্লীলতাহানির হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে মামা বখাটের ছুরিকাঘাতে ওই ছাত্রীর মামা হাসান আলী (২৫) নিহত হয়েছেন। এ সময় স্কুলছাত্রীর নানা শারীরিক প্রতিবন্ধী হামিদুর রহমান গুরুতর জখম হয়েছেন।

শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রতিবেশীদের গণপিটুনিতে হামলাকারী বখাটে আকবর আলীও নিহত হয়। তিনি দামুড়হুদা উপজেলার মদনা গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। নিহত আকবর আলী (৪০) ছিল একজন সবজি ব্যবসায়ী।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আমিরপুর রেলগেটপাড়ার হামিদুর রহমানের বাড়িতে শুক্রবার রাতে সবাই ঘুমিয়ে ছিল।
রাত একটার দিকে বখাটে আকবর আলী ছুরি নিয়ে বাড়িতে ঢুকে হামিদুরের ভাগ্নি ওই স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে
আকবর। ছাত্রীটির চিৎকার শুনে ছুটে যান মামা হাসান আলী ও তার পিতা শারীরিক প্রতিবন্ধী হামিদুর রহমান।

এ সময় বখাটে আকবর তিনজনকে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। তাদের চিৎকার চেঁচামেচি শুনে প্রতিবেশীরা
ছুটে এসে বখাটে আকবরকে গণপিটুনি দেয়। সেখানেই নিহত হয় আকবর আলী।

মামা হাসান আলী ও নানা হামিদুর রহমানকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে হাসান আলীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন
জরুরি বিভাগের ডাক্তার।

এদিকে বৃদ্ধ হামিদুর রহমানকে (৬০) গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্কুলছাত্রীর
শরীরেও কয়েকটি ধারালো অস্ত্রের কোপের চিহ্ন আছে। তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গণপিটুনিতে নিহত আকবর আলী দামুড়হুদা উপজেলার মদনা গ্রামের বাসিন্দা হলেও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর গ্রামের
আলম হোসেনের বাড়িতে ভাড়ায় থাকতেন এবং ফেরি করে সবজি বিক্রি করতেন।

আকবর শুক্রবার রাতে একই গ্রামের আরেক বাড়িতে ঢুকে এক কিশোরীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। সেখান থেকে তাড়া খেয়ে ওই স্কুলছাত্রীর ঘরে ঢুকে তান্ডব চালায় বলে গ্রামের লোকজন জানান।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আবু এহসান মো. ওয়াহেদ রাজু বলেন, রাত পৌনে চারটার দিকে হাসানুজ্জামান নামের এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তবে হাসপাতালে আনার পূর্বেই তার মৃত্যু হয়। ধারালো অস্ত্রের উপর্যুপরি আঘাতের ফলে হাসানুজ্জামানের শরীরে অসংখ্যা আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং পেটের ভুড়ি বেরিয়ে যাওয়ায় তার মৃত্যু ঘটেছে। হাসানুজ্জামানের বাবা হামিদুল ইসলামের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। হাসানুজ্জামনের ভাগনি সুমাইয়াকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ খান জানান, চুয়াডাঙ্গা সদরের মোমিনপুর ইউনিয়নের আমিরপুর গ্রামে মধ্যরাতে এক কিশোরীর শ্লীলতাহানীর চেষ্টাকালে এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে আকবর আলী নামের একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আকবর আলীর ছুরিকাঘাতে ওই কিশোরীর নানা হামিদুল ইসলাম গুরতর আহত ও মামা হাসানুজ্জামান নিহত হয়েছেন।

শামসুজ্জোহা পলাশ/চুয়াডাঙ্গা