ঢাকা আন্তর্জাতিক ফোকফেস্ট বা লোকসংগীত উৎসবে নিবন্ধনের তথ্য তৃতীয় পক্ষকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিবন্ধনের সময় গ্রাহকরা যা যা তথ্য দিয়েছেন, অনুমতি না নিয়েই সেসব তথ্য দিয়ে ডি মানি নামের একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অ্যাকাউন্ট খুলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই উৎসবে তারা অংশীদার হিসেবে কাজ করছেন। যদিও ওই প্রতিষ্ঠানটি এ ঘটনাকে অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে দাবি করছেন।এবারে ফোক ফেস্টের টিকিট নিবন্ধন এবং বিতরণের দায়িত্বে ছিল বাংলাদেশের একটি পরিষেবা সরবরাহকারী অ্যাপ ‘সহজ’।এবারও নিবন্ধনের জন্য তারা আগ্রহীদের জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) অথবা পাসপোর্টসহ ব্যক্তিগত যোগাযোগের নানা তথ্য চেয়েছে। তবে এই বছর নিবন্ধনের শর্তাবলীতে একটি ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

নিবন্ধনের নিয়মাবলীর ১৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, এই ইভেন্টে নিবন্ধন করা মানেই হলো তারা এই উৎসবের অংশীদার ডিজিটাল পেমেন্টের সাথে তাদের তথ্য শেয়ার করার অনুমোদন দিয়েছেন। ফোক ফেস্টের এই ডিজিটাল পেমেন্ট পার্টনার হিসেবে আছে ডি মানি বাংলাদেশ লিমিটেড নামে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। নিবন্ধন করার কয়েকদিনের মাথায় বেশ কয়েকজন গ্রাহকের কাছেই ডি মানি থেকে ইমেইল আসে।

ইমেইলে বলা হয়, তাদের নামে ইতোমধ্যে একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। এবং তাদের এনআইডি এবং ব্যাঙ্কের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পরে তাদের অবহিত করা হবে। ফোক ফেস্টে নিবন্ধনের সময় তারা যে তথ্যগুলো দিয়েছেন, সেগুলো নিয়ে ডি-মানি অ্যাকাউন্টটি খুলেছে বলে জানা যায়।

গ্রাহকরা এমন অভিযোগ জানালেও এমন ঘটনাকে অস্বীকার করছে ডি মানি। ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ডি মানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফোক ফেস্টে নিবন্ধিত কয়েকজনের কাছে ‘দুর্ঘটনাবশত’ এই ই-মেইল পাঠানো হয়েছে। বিবৃতিতে এটাও নিশ্চিত করা হয়েছে, কারো জন্য কোনো অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হয়নি।

ডি মানির ভাইস চেয়ারম্যান সোনিয়া কবির বশির গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা আয়োজকদের কাজ থেকে শুধুমাত্র নিবন্ধিত গ্রাহকদের ফোন নম্বর ও ইমেইল অ্যাড্রেস নিয়েছেন। সেটাও নিজেদের অ্যাপের প্রচারণার উদ্দেশ্যে। এর বাইরে আর কোনো তথ্য তারা নেননি। তিনি দাবি করে বলেন, ‘আমাদের কাছে কারো এনআইডি নম্বর নেই, ঠিকানা নেই। এগুলো ছাড়া তো ওয়ালেট হয় না।’

সোনিয়া বশিরের বক্তব্যকে সমর্থন করে ফোক ফেস্টের আয়োজক সংস্থা সান কমিউনিকেশনসও। তারা জানিয়েছে, ডি-মানি নামের আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তাদের অ্যাপের প্রচার প্রচারণার জন্য গ্রাহকদের ইমেইল ও ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আর সব তথ্য উৎসবে আসা সবার নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে কারো অনুমোদন ছাড়া তার ব্যক্তিগত তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে প্রকাশ করা এবং সেই তথ্য ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক কাজে ব্যবহার করাকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সরাসরি লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক তসলিমা ইয়াসমিন। আইনে বলা আছে, কারো ব্যক্তিগত তথ্য বা তার পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য ওই ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া কেউ শেয়ার করতে পারবে না, ব্যক্তিগত বা কোম্পানির লাভের জন্য ওইসব তথ্য ব্যবহার করা যাবে না।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

আজকের পত্রিকা/সিফাত