ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতাল।

ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রায় কোটি টাকা দামের ইকো ও ইটিটি মেশিন স্থাপনের এক বছরেও সুফল পাচ্ছেন না রোগীরা।

হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, গত এক বছরে ৮ জন রোগীকে ইকো করা হয়েছে। আর ইঞ্জিনিয়ার না থাকায় ও টেকনোশিয়ান না থাকাসহ নানা জটিলতায় ইটিটি মেশিনটি পড়ে রয়েছে অযত্নে-অবহেলায়। নতুন ভবনের নিচতলায় ১১৯নং কক্ষে খোলা অবস্থায় ধুলাবালিতে ভরে আছে ইটিটি মেশিন।

সপ্তাহের প্রতি রবিবার ও বুধবার ইকো করার জন্য দুইজন ইকো কার্ডিওলজি কনসালটেন্ট নিয়োগ রয়েছে। ১২০নং কক্ষে রাখা মেশিনটি সম্পূর্ণ চালু থাকা স্বত্ত্বেও নানা কারণে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় না।

সূত্র আরো জানায়, বর্তমান সরকার চিকিৎসা সেবাকে সাধারন মানুষের দৌরগোড়ায় পৌছে দিতে নানা উদ্যোগ গ্রহন করে। এর ধারাবহিকতায় দেশের বিভিন্ন সরকারী হাসপাতালে বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে উন্নত মানের মেশিন স্থাপন করে।

সোনাগাজী থেকে আসা আবুল বশর নামের এক রোগী জানান, বুকের ব্যথা নিয়ে তিনি সদর হাসপাতালে গেলে কর্তবরত মেডিকেল অফিসার তাকে ডা. আবদুল মতিনের কাছে স্থানান্তর করেন। ডা. আবদুল মতিন তাকে চেক করে ইকো পরীক্ষা করতে পরামর্শ দেন।

হাসপাতালের ইসিজি ও ইকো টেকনেশিয়ান মো: মামুন জানান, মাত্র দুইশত টাকা করে সরকারী ফ্রি নিয়ে এ পর্যন্ত ৮ জন রোগীকে ইকো করা হয়েছে। সরকারি বেশ কয়েকজন কর্মকতা-কর্মচারীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ইকো করা হয়েছে। তবে তার সঠিক কতজনকে করা হয়েছে হাসপাতালের রেজিস্টার খুঁজে না পাওয়ায় তথ্য দিতে পারেননি।

তিনি আরো জানান, ইটিটি মেশিনটি চালাতে ও পরীক্ষাটি করতে একজন কার্ডিওলজি কনসালটেন্ট এবং একজন অভিজ্ঞ টেকনেশিয়ান উপস্থিত থাকতে হয়। কনসালটেন্ট থাকলেও টেনোলজি না থাকায় তা এ পরীক্ষটি করা সম্ভব হচ্ছে না। মাত্র এক হাজার টাকা সরকারী ফ্রি দিয়ে পরীক্ষাটি করা যায়। এ পরীক্ষাটি করতে প্রায় আধা ঘন্টা সময় লাগতে পারে।

জানা গেছে, সদর হাসপাতালে বর্তমানে দুইজন কার্ডিওলজি কনসালটেন্ট ডা, হুমায়ুন কবির ও ডা. মো: আবদুল মতিন রোগীদের ইকো এবং ইটিটি করতে পরামর্শ দেন। রোগীরা বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট হাসপাতালে বিপুল অর্থ দিয়ে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করতে হয়। এছাড়া মেডিকেল অফিসারদের পরামর্শে অন্য রোগীদেরও শহরের প্রাইভেট ক্লিনিকে ইকো করতে হয়।

ফেনী সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. আবু তাহের জানান, প্রতি রবিবার ও বুধবার ইকো করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের সদ্য যোগদানকৃত তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিধান চন্দ্র মেস গুপ্ত জানান, আমি যোগদান করেছি অল্প কিছুদিন হচ্ছে খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানাব।

আলী হায়দার মানিক/ফেনী