২৫০ শয্যার ফেনী জেনারেল হাসপাতালের ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সেই সাথে বাড়ছে নিয়মিত রোগীও। রোগীর পরিমাণ শয্যার দ্বিগুন হওয়ায় চিকিৎসা নিচ্ছেন মেঝে-করিডোরেও। একদিকে প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক চিকিৎসক অন্যদিকে বাড়তি রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

গতকাল মঙ্গলবার হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, এমনিতে প্রায় শয্যার বেশি পরিমান রোগী ভর্তি থাকে। ইতিমধ্যে ডেঙ্গুর ভয়াবহতায় রোগীর চাপ আরো বেড়ে গেছে। মেঝে এমনকি করিডোরেও চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

চিকিৎসক-নার্স সংকটের মধ্যে ডেঙ্গুসহ অন্য রোগীদের চিকিৎসাসহ সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও এখানে গতকালও রোগী ভর্তি ছিলো ৫শ ৪১ জন। বর্হি:বিভাগের চিত্র আরো ভয়াবহ।

ফেনী জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশু ওয়ার্ডে ২৬শয্যার বিপরীতে ১শ ১৩ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। একইভাবে মেডিসিন, ডায়রিয়া, ডেলিভারি, সার্জারি, গাইনি ওয়ার্ডে শয্যার বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। মেডিসিন ওয়ার্ডে ৫২ শয্যার বিপরীতে ২শ ১৪, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১৭শয্যার বিপরীতে ৩২, ডেলিভারি ওয়ার্ডে ১৭ শয্যার বিপরীতে ৩৫, সার্জারি ওয়ার্ডে ৪৮ শয্যার বিপরীতে ৭৫ এবং গাইনী ওয়ার্ডে ২৬ শয্যার বিপরীতে ২৭ জন ভর্তি রয়েছেন।

এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন ৬ জন। সূত্র আরো জানায়, এখনো ৬৬ জন ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। গতকাল পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ৩শ ৩৩ জন। এর মধ্যে ৪৭ জনকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ২শ ২০ জন।

ফেনী জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১০০ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। সেই তুলনায় জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ২৮৫টি পদের বিপরীতে ১শ ২টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে ৫৫ জন ডাক্তারের মধ্যে ১৮ টি পদ শূন্য রয়েছে। সহকারি পরিচালক পদটিও শূন্য দীর্ঘদিন।

দু’জন আবাসিক মেডিকেল অফিসারের মধ্যে একজনের পদ শূন্য। এছাড়া আবাসিক সার্জন, চক্ষু, মেডিসিন, চর্ম ও যৌন, ডেন্টাল চিকিৎসকের পদও শূন্য রয়েছে। খালি রয়েছে প্যাথলজিষ্টের পদও। জুনিয়র স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দুটি পদের মধ্যে একটি নেই। ৮২টি সিনিয়র স্টাফ নার্স পদের মধ্যে ১৩ জন, সহকারি সেবক ৫টির মধ্যে ৩টি, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ৪১টির মধ্যে ২৩টি ও ৪র্থ শ্রেণির ৭৩ জন কর্মচারীর মধ্যে ৪৬টি পদ শূন্য রয়েছে।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবু তাহের জানান, প্রতিদিন যে পরিমাণ রোগী থাকে সেই অনুযায়ী চিকিৎসক, নার্স ও শয্যা থেকে শুরু করে অনেক সংকট রয়েছে। এত কম ডাক্তার-নার্স নিয়ে মানুষের সেবা দেওয়া দুরূহ। তারপরও আমরা ভালো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিধান কুমার সেন জানান, ডাক্তার-নার্স নিয়োগ দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে চিঠি দেয়া হয়েছে।

আলী হায়দার মানিক/ফেনী