তিন জমজ বোন।

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার দক্ষিণ ভাইটকান্দি গ্রামের বাড়ি থেকে অপহৃত পনের বছর বয়সী যমজ তিন বোন পপি, সোমা ও চম্পাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এর মধ্যে গত সোমবার বিকেলে ফুলপুর উপজেলার হোসেনপুর ছয়মাইলের মোড় থেকে পপিকে এবং মঙ্গলবার দিনগত মধ্য রাতে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার নকশী বাজার সংলগ্ন জুয়েলের বাড়ি থেকে সোমা ও চম্পাকে উদ্ধার করা হয়। সেইসাথে এ ঘটনার সাথে জড়িত মোমেন মিয়া, সুমাইয়া, জুয়েল, মুন্না, রূপ চান মিয়া ও মাসুদ রানাকে আটক করা হয় বলে নিশ্চিত করেন ফুলপুর থানার ওসি ইমারত হোসেন গাজী।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ফুলপুর উপজেলার ভাইটকান্দি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও উপজেলার দক্ষিণ ভাইটকান্দি গ্রামের ধান ব্যবসায়ী আব্দুর রহমানের পনের বছর বয়সী এই তিন যমজ কন্যা পপি, সোমা ও চম্পা শুক্রবার ১৪ জুন রাত ১১টার পর দক্ষিণ ভাইটকান্দির নিজ বাড়ি থেকে হঠাৎ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোন সন্ধান না পেয়ে নিখোঁজ কিশোরীদের চাচা আবদুস সালাম শনিবার ১৫ জুন ফুলপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

পরিবার সূত্র আরো জানায়, ওই যমজ তিন বোন পপি, সোমা ও চম্পা বর্তমানে ফুলপুর উপজেলার ভাইটকান্দি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী। এর আগে তারা ময়মনসিংহ নাসিরাবাদ তুহফাতুল জান্নাত মহিলা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করার সময় ময়মনসিংহ সদর উপজেলার তিলকান্দি গ্রামের সুমাইয়া রাহা, মোমেন মিয়া ও মুন্নার সাথে বন্ধুত্ব হয়। সেই সুবাদে ওরা যমজ তিন বোন তিলকান্দি গ্রামে তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতো।

এরই সূত্র ধরে ১৫ জুন শনিবার ভোর রাতে সুমাইয়া রাহা, মোমেন মিয়া, মুন্না ও মাসুদ গোপনে যমজ তিন বোনকে ফুঁসলিয়ে বাড়ি থেকে বের করে জোর পূর্বক অপহরণ করে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার নকশী বাজার সংলগ্ন জুয়েলের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আটক অবস্থায় মঙ্গলবার ১৮ জুন বিকেলে আবিদা সুলতানা পপি কৌশলে জুয়েলের বাড়ি থেকে পালিয়ে আসে। পরে সংবাদ পেয়ে পুলিশ পপিকে ফুলপুর উপজেলার হোসেনপুর ছয়মাইলের মোড় থেকে অসুস্থ্য অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এর পর উদ্ধার হওয়া পপির দেওয়া তথ্যমতে, ফুলপুর থানা পুলিশ ও জেলা ডিবি পুলিশ শেরপুর জেরার ঝিনাইগাতী থানা পুলিশের সহায়তায় মঙ্গলবার মধ্য রাতে নকশী বাজার সংলগ্ন জুয়েলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অপহৃত সোমা ও চম্পাকে উদ্ধার করে। একইসাথে এ ঘটনার সাথে জড়িত মোমেন মিয়া, সুমাইয়া, জুয়েল, মুন্না, রূপ চান মিয়া ও মাসুদ রানাকে আটক করে।

ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমারত হোসেন গাজী এ সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহনের প্রস্তুতি চলছে।

আজকের পত্রিকা/আরবি/এমএআরএস