ভারত যখন থেকে গঙ্গার বুকে ফারাক্কা ব্যারাজ চালু করেছিল, তখন থেকে বিতর্ক কখনও এই প্রকল্পটির পিছু ছাড়েনি। ছবি: সংগৃহীত

৪৩ বছর আগে ১৬ মে তারিখে ভারতে নির্মিত ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে লং মার্চে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন রাজনীতিবিদ মাওলানা ভাসানি। তখন থেকেই বাংলাদেশে এই দিনটি ‘ফারাক্কা লং মার্চ দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। তবে বিগত পাঁচ দশকে ফারাক্কা নিয়ে ভারতের অনড় অবস্থানে বিশেষ কোনো পরিবর্তন হয়নি। কিন্তু সম্প্রতি ভারতেও ফারাক্কার বিরুদ্ধে জনমত জোরালো হচ্ছে।

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার তো ফারাক্কা ব্যারাজ ভেঙে ফেলারও প্রস্তাব করেছেন। সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

অ্যাক্টিভিস্ট মেধা পাটকরসহ আরও অনেক বিশেষজ্ঞ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেছেন, ‘ভারতেও ফারাক্কা এখন সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই বেশি ঘটাচ্ছে তাই এটি অবিলম্বে ‘ডিকমিশন’ করা দরকার।‘

ভারত যখন থেকে গঙ্গার বুকে ফারাক্কা ব্যারাজ চালু করেছিল, তখন থেকে বিতর্ক কখনও এই প্রকল্পটির পিছু ছাড়েনি। ফারাক্কা থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে যেমন এই ব্যারাজের মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়েছে তেমনি ভারতেও এখন ফারাক্কা নানা ধরনের বিপদ ডেকে এনেছে।

বিহারের গাঙ্গেয় অববাহিকায় প্রতি বছরের ভয়াবহ বন্যার জন্য ফারাক্কাকেই দায়ী করে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এই বাঁধটাই তুলে দিতে বলেছিলেন। ভারতের নামী সংরক্ষণ অ্যাক্টিভিস্ট ও নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের নেত্রী মেধা পাটকর সংবাদমাধ্যম বিবিসিতে বলেছিলেন, ‘একটা বাঁধের প্রভাব যদি খুব ধ্বংসাত্মক হয়, ফারাক্কাতে যেটা হয়েছে, তাহলে সেটা ডিকমিশন করার অসংখ্য নজির কিন্তু দুনিয়াতে আছে। আমেরিকাতেও শতাধিক ড্যাম ভেঙে দিয়ে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

সাউথ এশিয়া নেটওয়ার্ক অন ড্যামস, রিভার্স অ্যান্ড পিপলের কর্ণধার ও নদী-বিশেষজ্ঞ হিমাংশু ঠক্কর জানিয়েছেন, ফারাক্কার ক্ষেত্রে একটা জিনিস স্পষ্ট – ফারাক্কার মূল উদ্দেশ্য যেটা ছিল সেই কলকাতা বন্দরকে কিন্তু আজও বাঁচানো যায়নি।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞ সুমনা ব্যানার্জি বলেছেন, ‘ফারাক্কার জন্য গঙ্গায় এত বেশি পলি জমছে যে তাতে দুপাড়ের জমি ভাঙছে, জনপদ প্লাবিত হচ্ছে।’

আজকের পত্রিকা/বিএফকে/জেবি

SOURCE বিবিসি