১৮ মার্চ সোমবার সকাল থেকে মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। জেলায় চেয়ারম্যান পদে ২০, ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) ৩৫ এবং ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) পদে ২৮ জনসহ মোট ৮৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

মৌলভীবাজার পৌর এলাকার কয়েকটি কেন্দ্র, শ্রীমঙ্গল পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং কমলগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শনে দেখা যায় কেন্দ্রগুলো প্রায় ফাঁকা রয়েছে। কেন্দ্রের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রিজাইডিং অফিসার, আনসার সদস্য ও অন্যান্যরা অলস সময় কাটাচ্ছে। ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চলের কেন্দ্রগুলোরই প্রায় একই পরিস্থিতি ছিল। তবে চা বাগানের কয়েকটি কেন্দ্রে কিছু ভোটারের উপস্থিতি ছিল একটু বেশি।

একেবারেই ভোটার ফাঁকা কেন্দ্রেগুলো হচ্ছে মৌলভীঅবাজার হাফিজা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গোবিন্দশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মৌলভীবাজার টাউন কামিল মাদ্রাসা, কাশিনাথ আলাউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বাজার সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়কাপন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,

সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হলেও কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল না একেবারেই। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ভাড়াউড়া চাগান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ভোটারের সংখ্যা-৩৪৯৩ জন তার মধ্যে ভোট পড়েছে ৭০০টি, সময়-১১টা ৩০ মিনিটে শহরের উদয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভোট ভোটার-২২৯২ জন, তার মধ্যে মোট ভোট পড়েছে ৯৬টি। দুপুর-১২টায় শহরের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ভোট ভোটার-৩৮৯৩ এর মধ্যে ২৭৩টি, শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মোট ভোটার সংখ্যা-২৩১৮ টির মধ্যে ৩০০টি, কালিঘাট চা বাগান- ৩৭৯০ ভোটারের মধ্যে ১৫০০টি, শমসেরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০৯৩ জনের মধ্যে ২০০টি, টিকরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৫৭৮ জনের মধ্যে ৬০০টি, উত্তরসুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে-২৭৪২ জনের মধ্যে ৭০০টি। মোট ৯টি কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা ছিল ২৬২২৩ জন তার মধ্যে ভোট পড়েছে ৩৫০০ জনের।

তার মধ্যে শ্রীমঙ্গল পৌরসভা এলাকায় ভোট পড়েছে ৮%, ইউনিয়নের বস্তি এলাকায় ৩২%, ও বাগান এলাকায় ভোট পড়েছে ২৬% যা গড় হিসাব করলে দেখা যায় মাত্র ২১% ভোট পড়েছে এই ৯টি কেন্দ্রে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, অনেক কেন্দ্রেই ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাগণ আলস সময় পার করছেন। কেন ভোটারের উপস্থিতি নেই তার কারণ জানতে চাইলে অনেকেই বলেন কেন ভোটারের উপস্থিতি নেই তা আপনারাই ভালো জানেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চা শ্রমিক বলেন ‘আমরা সাধারণ চা শ্রমিক, আমরা উপজেলা অফিসে যাবার সময় গায়ে সেন্ট মারিয়া যাই না, মুখে ক্রিম মারিয়া যাইনি, এর লাগি আমরারে কেউ দামটা বাকিন দেয় না, নির্বাচন আইলেই খালি তাগোরে দেখি আর নাইলে দেখি না, স্যার বাগানের মানুষ এখন অনেক কিছু বুঝে, এরা এখন আর আগের মতো বুকা নায়’ যে কইলে দৌড় দিত’।

ভোটারের উপস্থিতি কম হওয়ার কারণ জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার ডা. আরিফুল ইসলাম জানান, ভোটর উপস্থিতি খুবই কম। তবে বেলা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে ভোটার উপস্থিতি বাড়তে পারে।

উপজেলা নির্বাচনে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় মোট ৩ জন চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে নৌকা প্রতীক নিয়ে রনধীর কুমার দেব, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীক নিয়ে মো. আফজল হক ও জাকের পার্টির মো. আব্দুল কাইয়ুম গোলাপ ফুল প্রতীক। এ ছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. আফজল হক (আনারস প্রতীক) অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার লালবাগ ভোট কেন্দ্রে তার এজেন্টদের নৌকার প্রার্থীর লোকজন বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে অন্যায়ভাবে ভোট কাস্ট করছে।

আজকের পত্রিকা/শাহাব উদ্দিন আহমদ, মৌলভীবাজার/জেবি