মাহমুদ উল্লাহ্‌
বিজনেস করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা মহানগর ফল আমদানি-রফতানি কারক ও আড়ৎদার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ এর সাধারন সম্পাদক ফারুক সিদ্দিকী। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফলে বিষক্রিয়ার দায়ভার সরকার এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর ফল আমদানি-রফতানিকারক ও আড়ৎদার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ এর সাধারণ সম্পাদক ফারুক সিদ্দিকী।

তিনি আজকের পত্রিকার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইথোফেন দিয়ে অসাধু ফল বিক্রেতারা ফল পাঁকিয়ে থাকে। অথচ এই ইথোফেন কৃষি মন্ত্রণালয়ই অনুমোদন দেয় আমদানি করার জন্য। ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন নামে এই ক্যামিকেল আমদানি করে থাকে। ফল পাঁকানোর জন্য কোন ফরমালিন প্রয়োজন হয় না। বাপ দাদার আমল থেকে দেখে আসছি ফল এমনিই গরমে গাছে পেঁকে থাকে। কখনো ইথোফেন লাগেনি ফল পাঁকানোর জন্য। এই ইথোপেন আমদানিতে ফার্মগেটের খামার বাড়ি অনুমোদন দেয়। রাইজার, রাইফেন, হারভেস্ট, প্রমোট নামে এগুলো বিক্রি হয়ে থাকে। আমি বলবো ফলে বিষক্রিয়ার এই দায়ভার সম্পূর্ণ সরকারের। তবে সরকারের তদারকির কারণে ফলে এর ব্যবহার অনেকাংশে কমে আসছে। সরকারের তরফ থেকে আমদানি একদম গোড়া থেকে বন্ধ করে দেয়া উচিৎ।

তিনি আজকের পত্রিকাকে আরো বলেন, আমাদের সমিতি থেকে ফল ব্যবসায়ীদেরকে কঠিনভাবে নির্দেশ দেয়া আছে, কোন ফলে কোন ধরেনর ফরমালিন/ইথোফেন দেয়া যাবে না। এই যে সাংবাদিকরা নিউজ করেন যে, ফলে ফরমালিন, ফল আসলে ফরমালিন শুষে নিতে পারে না। ফরমালিন এবজর্ভ করার জন্য দরকার প্রোটিন। মাস মাংস দুধ হচ্ছে প্রোটিন। এসব প্রোটিনে ফরমালিন দেয়া হলে ফরমালিন গ্রহণ করে এসব তাজা থাকে। কিন্তু ফলে প্রোটিন নেই তাই ফল ফরমালিন এবজর্ভ করতে পারে না। মানুষ শুধুই শুধুই বলে ফলে ফরমালিন। আসলে আমাদের দেশে ইথোফেন নামের এক ধরনের ক্যামিকেল আমদানি করা হয়, যা দিয়ে ফল পাকানো হয়, বেশি দিন স্থায়িত্ব করা হয়। এই ইথোপেনকেই অনেকে না জেনে ফরমালিন বলে। ২০১৩/১৪ সালে আমাদের সাংবাদিকরা মিডিয়ার মাধ্যমে এই তথ্য ছড়ায়, ফলে সবার মাঝে ফরমালিন নামের একটা ভয় কাজ করে।

এই ইথোফেন কৃষি মন্ত্রণালয়ই অনুমোদন দেয় আমদানি করার জন্য- বললেন ফারুক সিদ্দিকী

মানুষ এখন ফল খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে এই ফরমালিনের ভয়ে। আপনি বাজার ঘুরে দেখেন যেন হরতাল চলছে, কোন লোকজন নাই, বেচাকেনা নাই। এই সময়ে এমন থাকার কথা নয়। ভোক্তারা খেজুরের উপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। খেজুর বিক্রি অনেক কমে গেছে। খেজুর বিক্রেতাদের সমিতি থেকে বলা আছে, খেজুর মেঝেতে রাখবেন না, পাটাতন বিছিয়ে রাখবেন। মেয়াদ উত্তীর্ণ খেজুর জব্দ করা হচ্ছে বিভিন্ন মিডিয়ায় নিউজ আসছে। এটা আসলে হয়েছে হাজার হাজার মন খেজুর আমদানির পর, বিক্রির শেষে সিজনে দেখা গেলো এক, দুইশো কেজি খেজুর রয়ে গেছে, এই ধরণের খেজুর জব্দ করা হয়েছে।

আম নিয়ে সরকার আমাদেরকে একটি শিডিউল দিয়ে গেছে। যে এই সময়ের আগে আম বিক্রি হবে না। ৩০শে বৈশাখ সাতক্ষীরা থেকে আম আনা যাবে, তার আগে নয়। ১ জোষ্ঠে থেকে গোপালভোগ বিক্রি করা যাবে। এরকম একেক জেলার এক এক আম সময়ের আগে বিক্রি করা যাবে না। জেলায় জেলায় প্রশাসনও তৎপর রয়েছে। এর আগে কৃষকরাও গাছ থেকে আম পাড়তে পারবে না।

আমাদের বাবু বাজার ফল আড়ৎ সমিতিতে বলা আছে, ফলে কোন ধরণের ক্যামিকেল ব্যবহার করা যাবে না। কোন ফরমালিন কেউ ব্যবহার করলে, তার বিরুদ্ধে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিলে আমাদের সমিতি তাকে কোন সহযোগীতা করবে না। সমিতি তার সঙ্গে নাই।

আজকের পত্রিকা/এমইউ/এমএইচএস