স্টিফেন লোভেন্থিলের সংগৃহীত ১৯ শতকের চীনাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি দৃশ্য। ছবি : সংগৃহীত

ফটোগ্রাফি আবিস্কারের পূর্বে চীনাদের নিয়ে পশ্চিমাদের কল্পনা এবং ধারণা যতটুকু তৈরি হয়েছিলো তা মূলত চিত্রশিল্প এবং পর্যটকদের পাঠানোর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে। কিন্তু ১৮৫০ সালের দিকে পশ্চিমা আলোকচিত্রীদের একটি দল দেশটির জীবন ব্যবস্থা, ভৌগলিক দৃশ্য, নগর এবং মানুষকে ধরে রাখতে প্রথম ফটোগ্রাফি শুরু করে।

স্কটিশ ফটোগ্রাফার জন থম্পসনের তোলার চীনের মীন নদীতীর। ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমা আলোকচিত্রীদের মধ্যে একজন ছিলেন ইতালীয়। নাম ফেলিস বিটাও। যিনি ১৮৫০ এর দশকে দ্বিতীয় আফিম যুদ্ধে অ্যাংলো-ফরাসি শোষণের চিত্র ধারণ করেন এবং অন্যজন স্কটিশ ফটোগ্রাফার জন থম্পসনের ফটোগ্রাফি পশ্চিমাদেরকে চীনের মীন নামের নদীটির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ দৃশ্যকে দেখার সুযোগ করে দেয়।

১৯ শতকের মাঝামাঝি চীনাদের তাঁতী শিল্পের ছবি সংগ্রহ করেছে লোভেন্থিল। ছবি : সংগৃহীত

এই ছবিগুলো মূলত নিউইয়র্কের প্রাচীনতম ছবির সংগ্রাহক স্টিফেন লোভেন্থিল দ্বারা সংগৃহীত ১৫০০০ ছবির সামান্য বৈশিষ্ট্য বহন করছে। ১৯ শতকের এই ছবিগুলোর মধ্যে দেখা যায় চীনের রাস্তাঘাটের দৃশ্য, ব্যবসায়ী সমাজের চিত্র, গ্রামীণ জীবন এবং স্থাপত্য।

চীনা দুই অভিনয় শিল্পীর ছবি যেটি তুলেছেন চীনা চিত্রগ্রাহক লাই আফঙ। ছবি : সংগৃহীত

স্টিফেন লোভেন্থিল গত তিন দশক ধরে চীনের ভেতরে এবং বাইরের দেশে নিলাম হওয়া বিভিন্ন ছবি সংগ্রহ করেছে। লোভেন্থিল নিজেদেরকে চীনা ফটোগ্রাফি সবচেয়ে বড় সংগ্রাহক বলেই দাবি করে থাকেন। এ হিসেবে দাবিটি যুক্তিসঙ্গত। যেহেতু বিশ শতকের অশান্তি, বিশৃঙ্খলার মধ্যে শিল্পকর্ম ও শিল্পকর্মের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে মাওর সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময়।

১৮৬০ সালে তোলা চীনা যুবতীর পোট্রেইট। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি লোভেন্থিল বেইজিংয়ে ১৮৫০ থেকে ১৮৮০ সালের চীনের জীবন ব্যবস্থা ধারণ করে এমন ১২০ টি ছবির প্রদর্শনী করে। সেই প্রদর্শনীর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে লোভেন্থিল বলেন, লোকেরা অন্য জায়গায় বিক্রি করতে পারে এমন দুর্দান্ত ছবিগুলো ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিল। যারা সেখানে ভ্রমণ করেছিলেন, কূটনীতিক এবং ব্যবসায়ীরা থেকে মিশনারি পর্যন্ত সকলেই চীনকে এই অনন্য সংস্কৃতির একটি রেকর্ড হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন’।

ফটোগ্রাফিতে চীনাদের ভূমিকা 

চাইনিজ ফটোগ্রাফির প্রথম দিকে বিদেশীদের বেশ ভূমিকা ছিলো। কিন্তু লোভেন্থিলের প্রদর্শনীতে ক্যামেরা তৈরির জন্যে চীনাদের নিজস্ব অনুশীলনকারীদের কৃতিত্বকেও সম্মান দেখিয়েছে।

নিজেদের কষ্টকর সরঞ্জাম বিক্রি করতে চীন থেকে বিতাড়িত বা প্রস্থান করা পশ্চিমাদের থেকেও কিছু ক্যামেরা চীনারা ক্রয় করেছিলো। অন্যেরা এই ক্ষেত্রে চীনা উদ্ভাবনের সুবিধা গ্রহণ করেছিল, যেমন গণিতবিদ জৌ বোকি যিনি নিজের গ্লাস প্লেট ক্যামেরা তৈরির জন্য বিদেশী তৈরি পণ্য ব্যবহার করেছিলেন।

আমেরিকান চিত্রগ্রাহক মিল্টন মিলারের তোলা ছবিতে ১৮৬০ সালের হংকং এবং গুয়াংজু শহরের মানুষ। ছবি : সংগৃহীত

১৯ শতকের শেষের দিকে প্রথমে বাণিজ্যিক শহরগুলিতে ফটোগ্রাফি অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠতে থাকে। বাণিজ্য করার শহরগুলোতে স্টুডিও তৈরি হতে থাকে। যেখানে বিশেষ করে পরিবারিক এবং ব্যক্তির ছবি তুলে দেয়া হতো। সেসময় তোলা অনেক ছবি পরবর্তীতে প্রশিক্ষিত চিত্রশিল্পীদের দ্বারা রঙিন করা হয়। তখনকার সময়ে চীনা ফটোগ্রাফার লাই আফঙের তোলা শহর এবং নগরের দৃশ্যগুলো গুরুত্ব বহন করে।

১৯ শতকের চীনের হতদরিদ্র মানুষ। ছবি : সংগৃহীত

লোভেন্থিলের সংগৃহীত ছবিগুলোর শৈল্পিক মূল্যের পাশাপাশি অ্যাকাডেমিক আগ্রহ রয়েছে। তার বর্তমান প্রদর্শনী চীন এর নেতৃস্থানীয় কলেজ বেইজিং শিংহুয়া  বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সঞ্চালিত হয়।

ছবিটি ১৯ শতকে তোলা বেইজিংয়ের অল্ড সামার প্লেস, এটি চীনা স্থাপত্যের ঐতিহ্য বহন করে। ছবি : সংগৃহীত

লোভেন্থিলের এই সংগ্রহশালায় চীনা স্থাপত্য ও ইতিহাস রয়েছে অ্যাকাডেমিক পর্যায়ে এই নিয়ে ব্যাপক পর্যবেক্ষণ হয়ে থাকে।

আজকের পত্রিকা/কেএইচআর/আ.স্ব