অস্টেলিয়া দল।

অ্যারন ফিঞ্চের সেঞ্চুরি আর মিসেল স্টার্কের বোলিং নৈপুণ্যে শ্রীলংকার বিপক্ষে দাপুটে জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। লংকানদের বিপক্ষে ৮৭ রানের জয়ে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডকে হটিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠি গেছে বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

এবারের বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে অ্যারন ফিঞ্চের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া। এক ম্যাচ কম খেলে ৭ ও ৬ পয়েন্ট নিয়ে দুই এবং তিন নম্বর পজিশনে আছে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড।

তিন ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে চারে আছে বিরাট কোহলির নেতৃত্বাধীন ভারত। আর পাঁচ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সেই পাঁচেই পরে আছে শ্রীলংকা। চার ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ছয় ও সাত নম্বর পজিশনে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং বাংলাদেশ।

শনিবার ইংল্যান্ডের কেনিংটন ওভালে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে অ্যারন ফিঞ্চের ঝড়ো সেঞ্চুরিতে ৭ উইকেটে ৩৩৪ রানের পাহাড় গড়ে অস্ট্রেলিয়া। টার্গেট তাড়া করতে নেমে দিমুথ করুনারত্নের ৯৭ এবং কুশল পেরেরার ৫২ রানের ইনিংসের পর ৪৫.৫ ওভারে ২৪৭ রানে অলআউট শ্রীলংকা।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩৩৫ রানের পাহাড় ডিঙাতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করেন লংকান দুই ওপেনার দিমুথ করুনারত্নে ও কুশল পেরেরা। ইনিংসের ৬.৫ ওভারে স্কোরবোর্ডে পঞ্চাশ রান যোগ করেন তারা। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ১২.৪ ওভারে দলীয় ১০০ রান পূর্ণ করেন করুনারত্নে ও কুশল পেরেরা। অজিদের বিপক্ষে ব্যাটিং তাণ্ডব চালিয়ে জোড়া ফিফটি গড়েন তারা।

তবে ফিফটি গড়ার পর নিজের ইনিংসটা লম্বা করতে পারেননি কুলশ পেরেরা। মিসেল স্টার্কের বলে স্টাম্প ভেঙ্গে যায় তার। সাজঘরে ফেরার আগে ৩৬ বলে পাঁচটি চার ও এক ছক্কায় ৫২ রান করেন পেরেরা। তার বিদায়ে ১৫.৩ ওভারে ১১৫ রানে ভাঙে শ্রীলংকার উদ্বোধনী জুটি।

কুশল পেরেরার বিদায়ের পর একাই লড়াই চালিয়ে যান করুনারত্নে। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি লাহিরু থিরিমান্নে। ২৬ বলে মাত্র ১৬ রান করে ফেরেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রীতিমতো ব্যাটিং তাণ্ডব চালিয়েও মাত্র ৩ রানের জন্য সেঞ্চুরি করতে পারেননি শ্রীলংকান অধিনায়ক করুনারত্নে। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়েও হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। কেন রিচার্ডসনের গতির বলে গ্ল্যান ম্যাক্সওয়েলের অসাধারণ ক্যাচে পরিণত হন করুনারত্নে। সাজঘরে ফেরার আগে ১০৮ বলে ৯টি চারের সাহায্যে ৯৭ রান করেন তিনি।

করুনারত্নের বিদায়ের পর ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেননি সাবেক অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস, মিলিন্দা শ্রীবর্ধনে, থিসেরা পেরেরারা। নিয়মিত বিরতিতে তাদের উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ৪৫.৫ওভারে ২৪৭ রানে অলআউট শ্রীলংকা। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মিসেল স্টার্ক ১০ ওভারে ৫৫ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন। এছাড়া ৪৭রানে ৩ উইকেট নেন রিচার্ডসন।

অস্ট্রেলিয়া ৩৩৪/৭

অ্যারন ফিঞ্চের ঝড়ো সেঞ্চুরিতে শ্রীলংকার বিপক্ষে ৭ উইকেটে ৩৩৪ রানের পাহাড় গড়েছে অস্ট্রেলিয়া। দলের হয়ে ১৩২ বলে সর্বোচ্চ ১৫৩ রান করেন অজি অধিনায়ক ফিঞ্চ। এছাড়া ৭৩ রান করেন স্টিভ স্মিথ।

শনিবার ইংল্যান্ডের লন্ডন ওভালের কেনিংটনে লংকানদের বিপক্ষে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে উড়ন্ত সূচনা করেন অ্যারন ফিঞ্চ। উদ্বোধনী জুটিতে ১৬.৪ ওভারে স্কোরবোর্ডে ৮০ রান যোগ করেন তারা।

এরপর ২০ রানের ব্যবধানে সাজঘরে ফেরেন ডেভিড ওয়ার্নার ও উসমান খাজা। ব্যক্তিগত ২৬ রানে ওয়ার্নার আউট হওয়ার পর ১০ রানে ফেরেন উসমান।

তাদের বিদায়ের পরও ব্যাটিং তাণ্ডব চালিয়ে যান ফিঞ্চ। ৫৩ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর সেঞ্চুরির জন্য একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। তৃতীয় উইকেটে স্টিভ স্মিথের সঙ্গে গড়েন ১৭৩ রানের অনবদ্য জুটি। আর এই জুটিতেই শতরানের মাইলফলক স্পর্শ করেন অ্যারন ফিঞ্চ।

১৩২ বলে ১৫টি চার ও পাঁচটি ছক্কায় ১৫৩ রান করেন ইসুর উদানের বলে ক্যাচ তুলে দিয় ফেরেন ফিঞ্চ। তার বিদায়ের পর সুবিধা করতে পারেননি স্মিথ। সাজঘরে ফেরার আগে এবারের বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচে তৃতীয় ফিফটি তুলে নেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এ অধিনায়ক। ৫৯ বলে ৭টি চার ও একটি ছক্কায় ৭৩ রান করেন স্মিথ।

এরপর সময়ের ব্যবধানে উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। তবে ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিলে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে যান গ্ল্যান ম্যাক্সওয়েল। মাত্র ২৫ বলে ৫টি চার ও একটি ছক্কায় অপরাজিত ৪৬ রান করেন ম্যাক্সওয়েল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

অস্ট্রেলিয়া: ৫০ ওভারে ৩৩৪/৭ (ফিঞ্চ ১৫৩, স্মিথ ৭৩, ম্যাক্সওয়েল ৪৬*, ওয়ার্নার ২৬; ইসুর উদান ২/৫৭, সিলভা ২/৪০)।

শ্রীলংকা: ৪৫.৫ ওভারে ২৪৭/১০ (করুনারত্নে ৯৭, কুশল পেরেরা ৫২, মেন্ডিস ৩০; মিসেল স্টার্ক ৪/৫৫)।

ফল: অস্ট্রেলিয়া ৮৭ রানে জয়ী।