প্রাণিসম্পদ শিল্পে পশুপালন স্নাতকদের কাজ ”শীর্ষক কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন এক অতিথি।

“দুধ, ডিম, মুরগির সরবরাহ এখন সাধারণ মানুষের কাছে খুব সহজে পৌঁছে যাচ্ছে। যা সম্ভব হয়েছে পশুপালন স্নাতকদের জন্য। তাদের প্রচেষ্টায় প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার প্রান্তিক মানুষের কাছে সহজলভ্য হয়েছে।

এখন দিন শেষে একজন রিকসাওয়ালাও একটি মুরগি নিয়ে ঘরে যেতে পারছে। পোল্ট্রি উৎপাদন, পালন থেকে শুরু করে তা খাবার আগ পর্যন্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে যে, তারা যা খাচ্ছে তা নিরাপদ। তোমরা যেখানেই কাজ করো না কেন, সবসময় মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টা খেয়াল রাখতে হবে। বাংলাদেশ ডিম ও পোল্ট্রি এখন রপ্তানিও করতে পারে। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোয় মহিষ পালন বেশি হয় । আমাদেরও দুধ ও মাংসের চাহিদা পূরণে মহিষ পালনে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

জ্ঞান, দক্ষতা আর প্রচেষ্ঠা থাকলে সকল জায়গায় তোমারা গ্রহণযোগ্যতা পাবে। যা নিজেকে তৈরি করে নিতে হবে।”

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) কর্মক্ষেত্রের উপর পরামর্শ বিষয়ক “ প্রাণিসম্পদ শিল্পে পশুপালন স্নাতকদের কাজ ”শীর্ষক কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান ।

বাকৃবি পশুপালন ছাত্র সমিতির আয়োজনে শুক্রবার সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে ওই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচিতে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞ মো. গাউস খান।

এসময় তিনি বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষের প্রোটিনের চাহিদাও বেড়ে চলেছে। বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রোটিনের চাহিদা পূরণের গুরুভার বহন করছে পশুপালনের স্নাতকদের ।

আগে তাদের তেমন কর্মক্ষেত্র না থাকলেও এখন সময়ের প্রয়োজনে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্র সৃষ্ঠি হয়েছে। বিভিন্ন পোল্ট্রি ফার্ম , মিল্কভিটা, ডেইরি পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানিতে পশুপালনের স্নাতকদের দক্ষতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। তারা বয়লার বিশেষজ্ঞ, পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞ, মিট প্রোসেস বিশেষজ্ঞ, ফুড প্রোসেস বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরামর্শদাতা হয়েও কাজ করছে। প্র্যাকটিক্যাল বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দক্ষতা অর্জন করলে কর্মক্ষেত্রে কাজ করা সহজ হবে। পশুপালনের স্নাতকদের আত্মকর্মী হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে ও দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

কর্মসূচিতে পশুপালন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল হাজব্রেন্ড্রী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. সৈয়দ সাখাওয়াত হোসাইন। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল হাজব্রেন্ড্রী সোসাইটির সভাপতি মো. মাহাবুব হাসান, পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞ মো. গাউস খান, নারিস পোল্ট্র অ্যান্ড হ্যাসারির বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার মাহামুদুল হাসান, অ্যাম্পল অ্যানিম্যাল কেয়ারের সিইও মো. জসিম উদ্দিন, এজি এগ্রি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার মো. জাবেদ হোসাইন, কাজী হ্যাসারির জেনারেল ম্যানেজার মো. আতিকুর রহমান, বাকৃবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল হক , বাকৃবি পশুপালন ছাত্র সমিতির ভিপি ইসতিয়াক আহমেদ পিহান । এছাড়া পশুপালন অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

অতিথিদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল হাজব্রেন্ড্রী সোসাইটির সভাপতি মো. মাহাবুব হাসান।

তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি সবার জন্য নিরাপদ আমিষ সরবরাহ করতে। এখন দেশে মাথা প্রতি ১০৩ টি ডিম উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। সামনে তা আরো বাড়ানো চেষ্টা করছি। আমরা এখন ডিম বাইরেও রপ্তানী করতে পারব। সে দিন আর বেশি দূরে নয় যে দিন পোল্ট্রি শিল্প পোশাক শিল্পকেও ছাড়িয়ে যাবে।

-তানিউল করিম জীম