আফ্রিকান প্রজাতির সিক্লিড মাছ। ছবি : সংগৃহীত

পৃথিবীর ইতিহাসে বহু মানুষ তাদের হারিয়ে যাওয়া প্রেম, ভালোবাসা নিয়ে দুঃখ করে লিখেছে হাজারো গান, কবিতা। কিন্তু সম্প্রতি ফরাসি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলছেন, ‘মানুষের মতো এক ধরণের মাছের মধ্যেও ব্যর্থ প্রেম নিয়ে শোক করার দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে’। যদিও বলা হয়ে থাকে মানসিক এইসব আবেগ-অনুভূতি শুধুমাত্র মানুষের মধ্যেই গভীর ভাবে থাকে।

ফ্রান্সের বার্গান্ডি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা মধ্য আমেরিকাতে বসবাসকারী ছোট প্রজাতির একগামী সিক্লিড মাছের মানসিক আবেগ, অনুভূতি ও মেজাজের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।

তারা ৩৩টি নারী সিক্লিড মাছকে একজন করে পুরুষ সঙ্গী বেছে নেওয়ার অনুমতি দেয় এবং তাদের পছন্দের সঙ্গীর সঙ্গে মিলন না হওয়া পর্যন্ত নারী মাছের আচরণ পর্যবেক্ষণ করে। তারা সেখানে দেখেছে যে তাদের প্রথম পছন্দকে প্রত্যাখ্যান করা নারীরা জীবনের উপর আরো বেশি হতাশাজনক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে।

১২ জুন বুধবার প্রকাশিত দ্যা রয়্যাল সোসাইটি বি জার্নাল কার্যনির্বাহী গবেষণায় দেখা গেছে, যে নারী সিক্লিড মাছটিকে তার পছন্দের সঙ্গীর থেকে আলাদা করে নেওয়া হয়েছে তার মধ্যে জীবনের প্রতি হতাশাজনক দৃষ্টিভঙ্গি পরিলক্ষিত হয়েছে। অন্যভাবে বলা যায়, তার জীবন তার কাছেই বিপদজ্জনক হয়ে পড়েছে যা সেই নারী সিক্লিডের জন্যে একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

গবেষকরা পরীক্ষাটি পরিচালনার জন্যে সিক্লিড মাছগুলোকে নিয়ে একটি ট্যাংকের মধ্যে রাখে। যেখানে তিনটি পৃথক রঙ ও অবস্থানের খোলা বাক্স রাখা হয়। যার একটি পজিটিভ বাক্স খাদ্যে পরিপূর্ণ, অন্যটি খালি বা নেগেটিভ বাক্স রাখা হয়। তারপর জীবতত্ত্বিক সেই নারী মাছগুলোকে একটি অস্পষ্ট বাক্সে উপস্থাপন করেন এবং নারী সিক্লিড মাছের সঙ্গীর সঙ্গে আলাদা হয়ে যাওয়ার আগে ও পরের আচরণ ও প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন।

বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে তাদের পছন্দের সঙ্গীর সঙ্গে থাকা নারী মাছটি সহজেই সেই অস্পষ্ট বাক্সটি শনাক্ত ও তদন্ত করতে পারছে, কিন্তু যে নারী মাছটির বিচ্ছেদ হয়েছিলো তার জীবনের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ও প্রতিক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিয়েছে।

গবেষক, লেখক এবং ইকোলজিস্ট ফ্রাঙ্কো-জাভিয়ার ডেচেউম-মনচারমন্ট বলেন, গবেষণাটি এই মাছেদের মানসিক অবস্থা, তাদের আশাবাদ বা হতাশার একটি পরিমাপ। যদি আপনি আশাবাদী মনোভাব রাখেন তবে আপনি কাচের গ্লাস অর্ধেক পূর্ণ দেখতে পাবেন। আর আপনি যদি হতাশাজনক মনোভাবের মধ্যে থাকেন তবে আপনি এটি অর্ধেক খালি দেখতে পাবেন। এটি মাছের জন্য একই রকম।

বিজ্ঞানীরা আরও বলছেন, যেসব নারীরা তাদের পছন্দের পুরুষকে বেছে নিয়েছে  তারা প্রজননের জন্য আরও বেশি সক্রিয় ছিলো এবং তাদের ডিমের পরিচর্যায় অধিক সময় যাপন করেছে। গবেষকরা বিশ্বাস করেন, এই গবেষণা আমাদের ভালোবাসা এবং মানসিক সংযুক্তি আরও ভালভাবে বুঝতে সাহায্য করতে পারে।

আজকের পত্রিকা/কেএইচআর/কেএফ