পোশাক দেখে চিনে আসামি নারী কনস্টেবলের কাছে এসে গল্প শুরু করলে তাকে ধরে ফেলে পুলিশ। প্রতীকী ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর বাগমারায় ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার পলাতক আসামিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ দেড় মাস ধরে এক নারী পুলিশ সদস্য ওই আসামির সঙ্গে মোবাইলের মাধ্যমে প্রেমের অভিনয় করে দেখা করতে বলেন।

৭ জুন শুক্রবার ধর্ষণ মামলার আসামি আবুল কালাম আজাদ ওই নারী পুলিশ সদস্যের সঙ্গে দেখা করতে এসে গ্রেফতার হন। আজাদ বাগমারা উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা। বাগমারা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৌরভ কুমার চন্দ্র জানান, গত ১৫ এপ্রিল আবুল কালাম আজাদ এলাকার এক নারীকে ঘরে ঢুকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এক পর্যায়ে ওই নারীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এর আগেই আবুল কালাম আজাদ পালিয়ে যান।

পরের দিন ওই নারী বাদী হয়ে থানায় ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা করেন। ঘটনার পর থেকে আসামি আজাদ পলাতক ছিলেন। নানাভাবে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয় পুলিশ। এসআই সৌরভ আরও জানান, আসামিকে গ্রেফতারে তিনি থানার একজন নারী পুলিশ সদস্যকে দিয়ে আবুল কালাম আজাদকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেন। দেড় মাস ধরে নারী পুলিশ সদস্য ওই আসামির সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করেন।

ঈদ উপলক্ষে ৭ জুন শুক্রবার দুপুরে উভয়ে মোহনপুর থানার সীমান্তবর্তী হাসনাবাদ এলাকায় দেখা করার দিনক্ষণ ঠিক করেন। তারা কী ধরনের পোশাক পরবেন, সেটাও আলাপ হয় মুঠোফোনে। পোশাক দেখে পরস্পরকে চেনা যাবে বলেও ঠিক হয়। দুপুর ১টার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৌরভ কুমার চন্দ্র নারী কনস্টেবলকে নিয়ে নির্ধারিত স্থানে হাজির হন। সাদা পোশাকে থাকা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও ওঁৎ পেতে থাকেন। পোশাক দেখে চিনে আসামি নারী কনস্টেবলের কাছে এসে গল্প শুরু করলে তাকে ধরে ফেলে পুলিশ।

বাগমারা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, আসামি ধরতে পুলিশকে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হয়। এতে নানা ঝুঁকিও মোকাবিলা করতে হয়।

আজকের পত্রিকা/এমইউ/সিফাত