আহত শিক্ষার্থী।

ছাত্রীকে দেওয়া প্রেম প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার জের ধরে ছাত্রীর সাথে থাকা শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শোয়েব হাসান হিমেল ও সহ সভাপতি হাসান বিদ্যুৎ। গত ১০ এপ্রিল বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, ১০ এপ্রিল রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলায় প্রত্নতত্ব বিভাগের ১১তম ব্যাচের এক ছাত্রী ও তার সাথে থাকা নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলামকে ডেকে নিয়ে যান শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি হাসান বিদ্যুৎ। এ সময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শরিফুলকে মারধর করেন শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শোয়েব হাসান হিমেল। এতে শরিফুলের মাথা ফেটে গেলে তিনি মারধর থেকে বাঁচতে দৌড়ে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে যান এবং সেখানে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা গুরুতর আহত শরিফুলকে পার্শ্ববর্তী একটি মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে চিকিৎসা দেয়।

এদিকে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শরিফুল এবং ওই ছাত্রী বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগে এসব কথা উল্লেখ করে নিজেদের নিরাপত্তা ও ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার বিচারের দাবি জানান।

তবে এই অভিযোগের পর ঐদিন সন্ধ্যায় দ্বিতীয় আরেকটি আবেদনে ভুক্তভোগী শরিফুল পূর্বের অভিযোগটি তুলে নেন এবং তাতে ‘আমাকে মারধর করেছে’ তবে ‘ইভিটিজিংয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি’ বলে উল্লেখ করেন। একইসাথে ‘শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিচারের আশ্বাসে অভিযোগ উত্তোলন করে নিতে’ বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের নিকট আবেদন জানান ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ১১তম ব্যাচের ওই ছাত্রী বলেন, ‘সে (হিমেল) আমাকে পছন্দ করতো। আমি তাকে না কইরা দিছি। এখন আমি শরিফ ভাইয়ার সাথে চলি বলে হয়তো বা সে মারধরের কাজটি করে থাকতে পারে।’

বিপরীতধর্মী দুটি অভিযোগের বিষয়ে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী জানান, `ওটা আমি প্ররোচনায় পড়ে লিখেছিলাম। ওরা আমাকে উত্ত্যক্ত করেনি। তবে শরিফুলকে মেরেছে হিমেল। আমার দ্বিতীয় অভিযোগটাই সঠিক।`

কার প্ররোচনায় লিখেছেন? এই প্রশ্নের জবাব তিনি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, `এটা আমাদের পারসোনাল ব্যাপার।`
কারও হুমকিতে অভিযোগ তুলে নিয়েছেন কিনা? এর জবাবে ওই ছাত্রী বলেন, ‘আমরা স্বেচ্ছায় অভিযোগ তুলে নিয়েছি। ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস ভাই বাকিটা দেখতেছেন। উনার ওপরেই ছেড়ে দেন। আমরাও ছেড়ে দিছি উনার ওপরে।’

ভুক্তভোগী শরিফুলের সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। অভিযোগ ওঠিয়ে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভাই, এতো প্যাঁচাইতেছেন কেন? আমি আগে অভিযোগ নিজের মতো করে দিছিলাম। এখন আবার নিজের মতো করে দিছি। কারও চাপ ছিলো না। আমি আর কিছু বলতে চাচ্ছি না ভাই। আমাকে বিরক্ত করবেন না।’

অভিযুক্ত হাসান বিদ্যুৎ এ বিষয়ে বলেন, ‘আমি তাকে (শরিফুল) মারধর করিনি বরং বাঁচানোর চেষ্টা করি। এবং ঐ ছাত্রী ঘটনাস্থল থেকে একটু দূরে ছিল। তাকে আমি কিভাবে ইভটিজিং করবো? তার চেহারাও আমি দেখিনি।`

অভিযুক্ত শোয়েব হাসান হিমেলের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে ফোন কেটে দেন। পরে ফোন ধরে তিনি বক্তব্য দেননি। পরে জানাবেন বলে ফোন কেটে দেন।

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, ‘মারধরের কথা আমি শুনেছি। এ বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নিব। কিন্তু ইভটিজিংয়ের বিষয়টি কে বা কারা ঐ মেয়েকে প্ররোচনা দিয়ে লিখিয়েছে। ওটা ভিত্তিহীন। মেয়ে সেটা পরের আবেদনে তুলে নিয়েছে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘ওরা ঘন্টায় ঘন্টায় অভিযোগ চেঞ্জ করলে এই অভিযোগের আসলেই কোনো ভিত্তি আছে কিনা সেটা খুঁজে দেখতে হবে। আমরা বের করবো এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, নাকি বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার জন্য তারা এমনটা করছে। তারপর যথাযথ ব্যবস্থা নিবো।’

সাজ্জাদ বাসার, কুবি