প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনীতে পরীক্ষার্থীদের বহিষ্কারের বিধান বাতিল করার বিষয়টি হাইকোর্টকে জানিয়েছে সরকার। তলবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আদালতে উপস্থিত হয়ে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষার্থীদের এখন থেকে আর বহিষ্কার করার সুযোগ নেই। এরই মধ্যে বহিষ্কার সংক্রান্ত ১১ নম্বর বিধি বাতিল করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

১৫ জানুয়ারি বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে ওই তথ্য জানানো হয়। ফলে এ বিষয়ে আদালতের নির্দেনা বাস্তাবায়ন হওয়ায় জারি করা রুল নিষ্পত্তি করেন আদালত।

আদালতে বুধবার আবেদনের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন জামিউল হক ফয়সাল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। মহাপরিচালকের পক্ষে ছিলেন শফিক মাহমুদ। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়- আদেশ অনুসারে বহিষ্কৃতদের পরীক্ষা নিয়ে ফল প্রকাশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বহিষ্কারের নিয়ম বাতিল করা হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ১৯ নভেম্বর ‘প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় শিশু বহিষ্কার কেন’ শিরোনাম নামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন ২১ নভেম্বর আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী জামিউল হক ফয়সাল। তার সঙ্গে ছিলেন এম মাহমুদুল হাসান, গাজী ফরহাদ রেজা ও মো. ফয়জুল্লাহ ফয়েজ। ওইদিন হাইকোর্ট স্বঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন।

রুলে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ২০১৮ সালের ১৮ ডিসেম্বরের জারি করা নির্দেশনার ১১ নম্বর অনুচ্ছেদ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চান হাইকোর্ট।

এর আগে পিইসি পরীক্ষায় বহিষ্কার করা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়ে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করার নির্দেশ দিয়ে গত ১৮ ডিসেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালককে (ডিজি) তলব করেছিলেন হাইকোর্ট।

আজকের পত্রিকা/সিফাত