শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

দীর্ঘদিনের প্রাণ শুণ্যতার থাকার পর আবারো প্রাণের স্পন্দন ফিরে পেয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বর। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের আনাগোনায় ফের প্রাণ ফিরেছে ৩৫ হাজার শিক্ষার্থীর বিচরণকেন্দ্র চিরসবুজ মতিহারের বুক। শিক্ষার্থীদের গল্প-আড্ডার কেন্দ্রস্থলটিতে ছুটি পরবর্তী আমেজ বইছে। পাশাপাশি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উন্মাদনা তাতে যোগ করেছে নতুন মাত্রা।

শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

এর আগে, পবিত্র রমজান-ঈদুল ফিতর ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে গত ৮মে (বুধবার) থেকে ২৩ জুন (রবিবার) পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস বন্ধ থাকে। ২৪ মে সোমবার থেকে সকল ক্লাস শুরু হয়। আবাসিক হলসমূহ ৩০ মে বৃহস্পতিবার বন্ধ করা হয়। ছুটি শেষে রোববার (২৩ জুন) সকাল দশটায় আবাসিক হলগুলো খুলে দেয়া হয় এবং ২ জুন (রবিবার) থেকে ২২ জুন (শনিবার) পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগীয় অফিস ও প্রশাসনিক দপ্তর বন্ধ থাকার পর ২৩ জুন (রবিবার) থেকে আবারও সকল প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ক্যাম্পাসে দেখা যায়, সোমবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্ট শিক্ষার্থীদের কোলাহলে মুখরিত হয়ে ওঠে, শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা গেছে উচ্ছাস। আড্ডাস্থলগুলো বেশ জমে ওঠেছে। টুকিটাকি চত্বর, সাগর ক্যান্টিন, পরিবহন মার্কেট এলাকা, শহীদ মিনার চত্বর, পুরনো ফোকলোর মাঠ, সাবাস বাংলাদেশ মাঠ, গ্রন্থাগার চত্বর, মিডিয়া চত্বর, আমতলা, চারুকলা চত্বরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে শিক্ষার্থীরা বন্ধুদের নিয়ে জম্পেশ আড্ডায় মেতে উঠেছেন। যেন টানা ৪৭ দিনের ছুটিতে জমিয়ে রাখা কথার ঝুলি নিয়ে বসেছেন তারা। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে আড্ডা-গল্পে মেতে উঠা এ যেন আরেক ঈদ!

বিভাগের সামনে টুকিটাকি চত্বরে সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী সাইমন হোসেন অনুভূতি ব্যক্ত করে বললেন, অনেক দিন পর বন্ধুদের সাথে দেখা হলো। ছুটিতে কে কী মজা করেছি তা গল্প করছি। দীর্ঘদিন ছুটি থাকায় বন্ধুদের অনেক মিস করেছি। আবারো এক জায়গায় হয়ে অনেক ভালো লাগছে।

সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শাওন বলেন বলেন, বাড়িতে যত মজার ঘটনা ঘটে তা ক্যাম্পাসের বন্ধুদের সাথে শেয়ার না করলে পেট ভারী হয়ে থাকে। অনেকদিন পর বন্ধুদের কাছে পেয়ে বেশ জমে উঠেছে আমাদের আড্ডা।

মাদারবখ্শ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মর্তুজা নুর বলছেন, ‘বাড়িতে একা একা বিশ্বকাপ দেখে মজা পাওয়া যাচ্ছে না। বিশ্বকাপটা উপভোগ করার জন্য হলেও হলে আসা উচিত। এখানে আমোদ নিয়ে খেলা দেখার সুযোগ হয়। তাছাড়া এতদিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার পর এখন এস বেশ লাগছে’।

ঈদের দীর্ঘ ছুটির পর ক্যাম্পাস খোলায় কাজের চাপ বেড়েছে প্রশাসন ভবনের বিভিন্ন দফতরেও। সব মিলিয়ে চিরচারিত ব্যস্ততায় মুখরিত হয়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গের শিক্ষার বাতিঘর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. প্রভাষ কুমার কর্মকার জানিয়েছেন, এদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহনের বাসও সবগুলো রুটে যথারীতি চলাচল করছে।

এম এ জাহাঙ্গীর/রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়