কাওখালীতে মাটির তৈরি খেলনাতে রঙ করছে এক শিশু মৃৎশিল্পী। ছবি : প্রতিনিধি

পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। আর এ প্রাণের উৎসবকে বরণ করতে ব্যস্ত পিরোজপুর জেলার কাউখালীর মানুষ। চলছে প্রস্তুতি। আর এ প্রস্তুতি নিয়ে লিখেছেন পিরোজপুর প্রতিনিধি শেখ রিয়াজ আহমেদ নাহিদ।

পহেলা বৈশাখে পিরোজপুর জেলাসহ উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বসবে বৈশাখী মেলা। আর মেলাকে সামনে রেখে এখন দিনভর কাজের চাপে ব্যস্ত সময় পার করছেন কাউখালীর উত্তর বাজার ও সোনাকুর গ্রামের মৃৎশিল্পীরা।

বৈশাখী মেলার একদিন বাকি থাকার কারণে অনেক খেলনা এখনো সম্পূর্ণ শুকায়নি তাই তাতে রঙ না করা হলেও অর্ধেক খেলনায় রঙ করা হয়ে গেছে। এভাবে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে হরেক রকম প্রাণী বানানোর কাজ।

খেলনা সামগ্রী এক একটি ১০ থেকে ১৫ টাকা দরে বাজারে বিক্রি করা হবে তবে খেলনা বিশেষে বাহারি ও বড় আকৃতির অনেক খেলনা ৮০ থেকে ১শ টাকায়ও বিক্রি হবে বলে কুমাররা আরো জানায়।

মাটির তৈরি খেলনা সামগ্রী। ছবি : প্রতিনিধি

বছরের অন্যান্য দিনে তারা বেশ দুরবস্থায় থাকলেও গ্রামগঞ্জের মেলা ও পূজা অর্চনা এলেই তারা একটু কয়েকদিনের জন্য দায় দেনা পরিশোধের সুযোগ পায়। তখন কর্মমুখর হয়ে ওঠে চিরচেনা ঐতিহ্যময় প্রাচীন এই মৃৎশিল্প পল্লী।

পিরোজপুরের কাউখালীর মানুষ বর্ষবরণ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব তাই বর্ষবরণে চলছে নানা আয়োজন। কাউখালী উপজেলার গ্রামগঞ্জে বসবে বৈশাখী মেলা। এ বৈশাখী মেলার বাচ্চাদের আকর্ষণ থাকে মাটির তৈরি নানা ধরনের খেলনা ও পুতুল।

তাই মেলাকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে দিনরাত কাজের চাপে ব্যস্ত সময় পার করছে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার উত্তর বাজার ও সোনাকুর গ্রামের মৃৎশিল্পীরা। কাউখালীতে ১০ থেকে ১২টি মৃৎশিল্প পরিবারের সদস্যরা অন্যান্য কর্মহীন দিনের তুলনায় এখন নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে বেশ ব্যস্ততায় দিন কাটাচ্ছে।

মাটির তৈরি খেলনা সামগ্রী। ছবি : প্রতিনিধি

সরেজমিন কাউখালী উপজেলার উত্তর বাজার মৃৎশিল্প পাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে, ১০ বছরের শিশু রিপন পাল থেকে শুরু করে বৃদ্ধ অনির পাল পর্যন্ত সকলেই কাজে মহাব্যস্ত। কথা বলার কোনও সুযোগ নেই, তবুও কাজের ফাঁকে কথা হয় তাদের সাথে। বানানো শেষ হাতি, ঘোড়া, হরিণ, বাঘ, গরু, লঞ্চ, নৌকা, হাড়ি-পাতিল, বালতি, থালা, কড়াই। বর্ষবরণ উপলক্ষে তাদের দিন-রাত এক হয়ে গেছে।

অবসর নেই বাড়ির বউ-ঝি, ছেলে-বুড়ো কারও। সবাই ব্যস্ত মাটির নানা সামগ্রী বানানোতে। মৃৎশিল্পীদের মাটির তৈরি খেলনা সামগ্রী রোদে শুকানো হচ্ছে। এরপর এগুলোকে পুড়িয়ে রঙ করে বিভিন্ন এলাকার মেলায় বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হবে। পাল পাড়ার প্রতিটি বাড়িই যেন মাটির হাড়-পতিল, হাতি, ঘোড়া, গরু, বাঘ, চিংড়ি মাছ, রুই মাছ, দেব-দেবীর মূর্তি বানানোর কারখানা।

কাউখালীর উত্তর বাজারের মৃৎশিল্পী রবিন পাল জানান, বিভিন্ন পূজার সময় প্রতিমা তৈরি আর বৈশাখী মেলার সময় মাটির খেলনা বানানোই তাদের এখন প্রধান আয়ের উৎস। তাই এ সময় তাদের অনেক ব্যস্ত থাকে। মৃৎশিল্পী রাধা রানী পাল বলেন, তারা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হরেক রকম মাটির প্রাণী ও নানা ধরনের খেলনা বানানোর কাজ করেন।

মৃৎশিল্পীরা জানান, খেলনা সামগ্রী এক একটি ১০ থেকে ১৫ টাকা দরে বাজারে বিক্রি করা হবে তবে খেলনা বিশেষে বাহারি ও বড় আকৃতির অনেক খেলনা ৮০ থেকে ১শ’ টাকায়ও বিক্রি হবে।

আজকের পত্রিকা/এমএআরএস/জেবি