মাহমুদ উল্লাহ্‌
বিজনেস করেসপন্ডেন্ট

বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এর লোগো। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাষ্ট্রিজ (বিসিআই) এর সভাপতি জনাব আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) এর সভাপতিত্বে এক প্রস্তাবিত বাজেটের উপর নিম্নোক্ত প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়ঃ

বিসিআই সভাপতি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের ২১ তম বাজেট। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের এটা ১৭ তম বাজেট। মাননীয় অর্থমন্ত্রী জনাব আ হ ম মুস্তফা কামাল, এমপি প্রথম বারের মত এ বাজেট উত্থাপন করায় মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি।

প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের উন্নয়নের জন্য ১০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিলের ব্যবস্থা রাখা, প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষার জন্য কোন প্রতিষ্ঠান ১০% প্রতিবন্ধী শ্রমিক নিয়োগ প্রদান করতে ৫ শতাংশ কর রেয়াতের প্রস্তাব করা, দক্ষতা উন্নয়নের জন্য জাতীয় মানবসম্পাদ উন্নয়ন তহবিল গঠন করায় মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি যা বিসিআই এর বাজেট প্রস্তাবের প্রতিফলন।

২০১৯-২০২০ অর্থবছর থেকে মূসক ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ বাস্তবায়িত হতে চলেছে। মূসক মুক্ত টার্নওভারের সীমা ৫০ লক্ষ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। টার্নওভার করের উর্দ্ধসীমা ৮০ লক্ষ টাকা হতে বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে, বিপুল সংখ্যক আইটেম মূসকের আওতা মুক্ত রাখা হয়েছে। এজন্য আমরা সরকারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তবে মূসক ব্যবস্থায় ভোক্তা ও দেশের ৮৫% ক্ষুদ্র মাঝারি পণ্য ও সেবা খাতে নিয়োজিত ব্যবসায়ীদের স্বার্থ ও সামর্থ্য অনুয়ায়ী একটি ভোক্তা ও ব্যবসা-বান্ধব মূসক ব্যবস্থা বলবৎ করার জন্য আমাদের নি¤œ লিখিত প্রস্তাবগুলো পুনরায় বিবেচনার অনুরোধ জানাচ্ছি।

১) টার্নওভারের উর্দ্ধসীমা ৫ কোটি নির্ধারন করে করের হার প্রস্তাবিত ৪% হতে ৩% এ নামিয়ে আনা;
২) পণ্য ও সেবাখাতে উপকরণ রেয়াত গ্রহণ করা না গেলে শিল্প ক্ষেত্রে ৫% ভ্যাট ধার্য্য করা;
৩) ২০১৮-২০১৯ বাজেটে বিদ্যমান সকল অব্যাহতি খাতকে প্রদত্ত অব্যাহতি অব্যাহত রাখার জন্য প্রস্তাব করছি।

প্রস্তাবিত বাজেটে কর্পোরেট এবং ব্যক্তি পর্যায়ের কর হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। দেশের বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও নতুন বিনিযোগ আকৃষ্ট করার জন্য কর্পোরেট কর হার হ্রাস করা প্রয়োজন। সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অগ্রগতি অব্যাহত রাখার জন্য শুধু ঢাকা বা চট্টগ্রাম কেন্দ্রীক না করে দেশের উত্তরাঞ্চল সহ প্রত্যন্ত ও অনুন্নত অঞ্চলে বিণিয়োগ ও শিল্পায়ন উৎসাহিত করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য বিশেষ রেয়াতি কর সুবিধা প্রদানের জন্য পুনরায় অনুরোধ করছি।

তবে আমাদের সামনে বেশকিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে ব্যাংকিং খাতের সমস্যা, বিনিয়োগের স্থবিরতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়া, স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রস্তুতি, বাজেট ঘাটতি। এসব বড় বড় চ্যালেঞ্জের জন্য সুনির্দিষ্ট সংস্কার কর্মসুচি প্রয়োজন রয়েছে।
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) এর বিস্তারিত প্রস্তাব সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে পেশ করা হবে।

আজকের পত্রিকা/এমইউ/এমএইচএস