গার্গী রায় চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

গার্গী রায় চৌধুরী। ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী। সম্প্রতি কৌশিক গাঙ্গুলী’র পরিচালিত ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’ সিনেমায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বিপরীতে অভিনয় করেছেন ‘নকশাল’ খ্যাত এই অভিনেত্রী। সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে আসবে ২৬ এপ্রিল। কোশিকের সাথে বড় পর্দায় কেমন জমিয়েছেন সেই অনুভূতি বলেছেন শাড়িকন্যা হিসেবে পরিচিত টালিউড অভিনেত্রী। ইটিভি’তে দেওয়া সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো আজকের পত্রিকার প্রিয় পাঠকদের জন্য।

খুব নাটকীয় ভাবে নাকি জেষ্ঠপুত্রের কাজ করার প্রস্তাব এসেছিল?

হঠাৎ একদিন একটা টেক্স এল। ‘কেমন আছো?’ আমি সঙ্গে সঙ্গে লিখে পাঠালাম, ‘কবে দেখা হবে?’ টেক্সটা ছিল কৌশিক গাঙ্গুলী’র। আমি জানি কৌশিক অকারণে খেজুরে গল্প করার জন্য আমায় টেক্স করেননি। একটা বিশেষ কারণে ও আমায় ‘ব্রাদার’ ডাকে, আমিও তাঁকে ‘ব্রাদার’ ডাকি। শান্তিনিকেতনে চলে আসতে বলল। এমন এক পরিচালকের ডাক এল যার ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন থাকে না। অন্যদের ক্ষেত্রে সাধারণত জানতে চাই কেমন কাজ? গল্প কেমন? কিন্তু কোশিকের ক্ষেত্রে প্রশ্নই ওঠে না। ও এমন পরিচালক যে রংটা ক্যানভাসে চড়িয়ে দিলে আমি সেটা এঁকে নিতে পারি। ‘খাদ’ সিনেমায়ও দেখেছি, এই সিনেমায় বারও দেখলাম। ও আসলে কমফর্ট জোন।

এই ছবির সঙ্গে ঋতুপর্ণ ঘোষের ছোঁয়া আছে…

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে শুনেছি ঋতুপর্ণ ঘোষের মা যখন চলে গেলেন। উনি দেখলেন একজন স্টারের ব্যক্তিগত জীবনে আবেগ আছে। প্রেম আছে। তাঁরও রক্তক্ষরণ হয়। এই জায়গা থেকে ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’র ভাবনা শুরু।

ট্রেলারে দেখা যাচ্ছে আপনি বলছেন…

আমার চরিত্র নিয়ে বিশদে বলা যাবে না। আমাদের জীবনে ন’টা রস আছে। ধরে নিন তার মধ্যে একটা আমি। এমন একটা চরিত্র যাকে ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’ ভরসা করে। চরিত্রের নাম সুদেষ্ণা। যে সোজাসুজি তাকিয়ে জ্যেষ্ঠপুত্রকে বলতে পারে, ‘এমন কী কথা যা সকালে বলা গেল না’?

গার্গী রায় চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

আপনার লুকটাও তো আলাদা?

আমি লুকটার প্রেমে পড়েছি। আমি মেথড অ্যাক্টর নই।

মানে আপনি ওয়ার্কশপে খুব একটা ভরসা করেন না?

নাহ। সিনেমার অভিনয়ে প্রস্তুত হয়ে আসতে নেই। জলের মতো নিজেকে রাখতে হয়। একজন পরিচালক যদি দম থাকে তহলে তিনি নিজের বুদ্ধি দিয়ে চরিত্র ফুটিয়ে তোলেন। আসলে সিনেমা তো ডিরেক্টরস্ মিডিয়াম।

এখন বাংলা সিনেমায় স্টার নয়, অভিনেতারা সামনে আসছে। সে ক্ষেত্রে আপনার কাজের জায়গাটা কেমন?

আরে, আসল তো ছোটগল্প নয়। উপন্যাস। নিজেকে পরিবর্তন শুধু নয়, পরিবর্ধনও করতে হয়। আমার কথা বাদ দিন। আমরা প্রসেনজিৎ কে যদি দেখি। তিনি মুনমুন সেনের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। মুনমুন সেনের মেয়ের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। সম্ভব হলে মুনমুন সেনের নাতনির সঙ্গেও করতে পারবেন। ‘বাবা কেন চাকর’ থেকে ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’ ভাবুন! কেমন করে পরিশ্রম দিয়ে নিজেকে ভেঙেছেন। এখন অমিতাভ বচ্চনের থেকে রাজকুমার রাও বেশি জনপ্রিয়। অমিতাভ নিজে স্বীকার করেছেন। আলিয়া ভাটকে দেখুন। এইগুলো না দেখে আমরা যদি শুধু  রোগা, মোটা, সুন্দর, ফর্সা নিয়ে থাকি, সেটা খুব হতাশার কারণ হবে। আমি যে কারণে ওই এক ঘেয়ে শাড়ি পরা ছাড়লাম। শাড়ি, সুন্দরী এগুলো শুনলেই মাথা গরম হয়ে যেত!

সুন্দরী বললে মাথা গরম হয় কেনো?

আরে আমি যা নিয়ে জন্মেছি তাতে আমার কৃতিত্ব কোথায়? আমি যদি আমার কাজের মাধ্যমে কৃতিত্ব অর্জন না করতে পারি তা হলে আর কী হবে? আমাকে কাজ দিয়ে স্যালুট পেতে হবে তো! শুধু সুন্দরী হয়ে আজকের দুনিয়ায় কী লাভ? আমার মধ্যে আগ্রাসী খিদে আছে। সেটা জিইয়ে রাখতে চাই। এটাই ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা। ঈশ্বর অনেক দিয়েছেন।

কিন্তু কাজের এই খিদের জায়গা থেকে জানতে চাই, আপনার কাজ কমে গেছে কেনো?

আমি বছরে দুটো কাজ করব। কিন্তু আলাদা। আমার ‘হামি’র চরিত্র দেখে কেউ বলবে না আমি ‘মেঘনাদবধ কাব্য’র চরিত্র করেছি। আবার ‘রামধনু’র চরিত্র দেখে বলবে না আমি ‘বিটনুন’ করেছি। সব ক্ষেত্রে আমার কাজ নজরে এসেছে। কৌশিক গাঙ্গুলী যদি আজ বলে শান্তিনিকেতনে চলে এস, সেটা তো আমায় অর্জন করতে হয়েছে। আমি আমার কাজের ক্ষেত্রে ছেলেদের লক্ষ্যমাত্রা রাখি। জিম করলে ছেলেদের দমটা টার্গেট করি। ছেলেদের সঙ্গে জিম করি। এটা তো স্বীকার করতেই হবে ছেলেদের দমটা কাজের ক্ষেত্রে বেশি থাকে।

গার্গী রায় চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

‘হামি’তে আপনার চরিত্র নিয়ে আপনি সন্তুষ্ট ছিলেন?

(একটু ভেবে) দেখুন, আমি পার্শ্বচরিত্র তো করিনি। আমার মতো করে আমার বিপরীত স্বভাবের চরিত্র করেছি। দর্শকের ভাল লেগেছে।

নিজের আবেগ, প্রেম, রক্তক্ষরণকে কী ভাবে সামলান?

আমার কাছে একটা শব্দ খুব জরুরি। সেটি হলো ‘মাত্রা’। অভিনয়ের মধ্যে সমস্ত রক্তক্ষরণ জমা রেখেছি। আমি আমার মতো করে চলতে পারি, এটাইতো আসল।

আপনার পারিবারিক সমর্থনের একটা জায়গা এ ক্ষেত্রে আছে তো?

সমর্থন নয়। পারিবারিক বিশ্বাসের জায়গা আছে। এটা আমি অর্জন করেছি।

এত ভাল কথা বলেন, রাজনীতিতে আসার আমন্ত্রণ পাননি?

অসম্ভব!

‘জ্যেষ্ঠপুত্রে’র সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে প্রসেনজিৎ নাকি বলেছিলেন, আপনি এই ছবির সিরিয়াস অভিনেত্রী?

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় হঠাৎ মজা করে বললেন, এই যে গার্গী ম্যাডাম বসে আছেন কেনো। আপনি তো এই সেটে সবচেয়ে সিরিয়াস। একটা কথা বলার আগে তিনি দশ বার ভাববেন। তারপর বলেন।

আচ্ছা, আপনার সঙ্গে নাকি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের প্রেম ছিল?

তাই? এই প্রশ্নের উত্তর তাহলে তাঁর কাছেই জানবেন।

আজকের পত্রিকা/এসএ/এমআরএস