লালমনিরহাট সেন্টাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার।

প্রসূতি মায়ের গর্ভফুল বের করার অজুহাতে অপারেশনের কথা বলে বিনা রশিদের ১২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ওঠেছে লালমনিরহাট সেন্টাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে।

২১ মে মঙ্গলবার বিকেলে লালমনিরহাট সিভিল সার্জন বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আশরাফুল ইসলাম নামে এক মুদি দোকানী।

মুদি দোকানী আশরাফুল ইসলাম লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের উত্তর গোবধা গ্রামের মৃত আব্দুল হক মুন্সীর ছেলে।

অভিযোগে জানা গেছে, মুদি দোকানদার আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী আছিনা বেগম (৩০) গত ১৬ মে নিজ বাড়িতে কন্যা সন্তান প্রসব করেন। কিন্তু কয়েক ঘন্টা অতিবাহিত হলেও গর্ভফুল আসছিল না। তাই চিন্তিত মুদি দোকানদার আশরাফুল ইসলাম স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক আব্দুর রহমানের পরামর্শে অসুস্থ্য স্ত্রী আছিনাকে লালমনিরহাট শহরের আলোরুপা মোড়ে সেন্ট্রাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানকার দায়িত্বরতরা দ্রুত তাকে ক্লিনিকের বেডে নিয়ে যান এবং দ্রুত রোগীকে অপারেশনের প্রস্তাব দেন।

এজন্য ক্যাশে দ্রুত ১৫ হাজার টাকা জমা দিতে বলেন। বিলম্ব হলে রোগীকে বাঁচানো সম্ভব নয় বলেও হুমকী দেয়া হয়।

অনেক দর কষাকষি করে অবশেষে ১২ হাজার টাকার চুক্তি হয় তাদের।

চুক্তি অনুযায়ী ক্লিনিকের ক্যাশ কাউন্টারে ১২ হাজার টাকা জমা দিয়ে রশিদ চান মুদি দোকানদার আশরাফুল। কিন্তু তাকে কোন রশিদ দেয়া হয়নি। উল্টো রশিদ চাইলে রোগী বাড়ি নিয়ে যেতে বলেন। এক পর্যায়ে তাকে বুঝ দিতে মাত্র ২শত টাকার একটি প্যাথলজির রশিদ প্রদান করা হয়।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে লালমনিরহাট সিভিল সার্জনের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রোগীর অভিভাবক মুদি দোকানদার আশরাফুল ইসলাম। যার অনুলিপি জেলা প্রশাসক ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিদফতরসহ বিভিন্ন দফতরে প্রেরন করেন তিনি।

মুদি দোকানদার আশরাফুল ইসলাম জানান, রোগী পৌছামাত্র বেডে নিয়েই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ দ্রুত অপারেশন করতে টাকা জমা দিতে বলেন। তাদের কথামত ১২ হাজার টাকা জমা দিলেও কর্তৃপক্ষ তাকে কোন রশিদ দেননি। নিজেরা রক্ত দিতে চাইলেও তারা দ্রুত তাদের সংরক্ষিত এক ব্যাগ রক্ত রোগীকে দেন। এ রক্তের গুনগত মান নিয়েও বিস্তার অভিযোগ তার।

সেন্ট্রাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমির হোসেন জানান, ক্লিনিক খরচ বাবদ নেয়া হয়েছে ৮হাজার টাকা এবং এক ব্যাগ রক্ত বাবদ খরচ হয়েছে ৩হাজার টাকা মিলে মোট ১১ হাজারে গর্ভফুল বের করা হয়। তবে রক্তের ডোনারের নাম পরিচয় জানতে চাইলেও বলতে পারেনি তিনি।

এমনকি এ রোগীর রেজিষ্টার দেখাতেও ব্যর্থ হন। রশিদ প্রদানের বিষয়ে তিনি বলেন, রোগীর লোকজন চুক্তি করে টাকা দেন। তাই রশিদ তারা রশিদ নেন না।

জেলা মার্কেটিং অফিসার আব্দুর রহিম জানান, রশিদ ছাড়া টাকা নেয়ার কোন নিয়ম নেই। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. কাশেম আলী অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রক্ত সংরক্ষন করার এবং রশিদ ছাড়া টাকা নেয়ার কোন নিয়ম নেই। অভিযোগটি তদন্ত করে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন দফতরও ব্যবস্থা নিতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না/লালমনিরহাট