দেশে নারী নির্যাতন এক ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কিছুদিন পূর্বে ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে।এ ঘটনার সঙ্গে আবার মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজদ্দৌলা জড়িত। এ হচ্ছে এখনকার মানবতা ও নৈতিকতার অবস্থা।এ অবস্থা কেন সৃষ্টি হলো? কেউ বলে থাকেন, যারা জড়িত তাদের শাস্তি হচ্ছে না।

শাস্তি হচ্ছে না কেন? তারা ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িত। অর্থাৎ যেভাবেই হোক ঘটনার দায় ক্ষমতাসীনদের ঘাড়েই পড়ছে।সুতরাং এসব ঘটনায় সরকার ও প্রশাসনকে অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ঘটনা যেখানেই ঘটুক, সঙ্গে সঙ্গে শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারকে এটি বুঝতে হবে। তা নাহলে সরকারের উপর থেকে মানুষের আস্থা কমে যাবে। এখানে ছাড় দিলে চলবে না।

মানুষ ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছে। এটা কি সরকার বুঝতে পারছে না! সরকারপ্রধান একজন নারী।সুতরাং নারীদের কাছে সরকারের প্রতি আস্থা বেশি। সমাজের যারা মাথা, তারা যদি এর প্রতিরোধে এগিয়ে না আসে, তবে সমাজ আরও পিছিয়ে যাবে।এখন আর কেউ নিরাপদ থাকবে না।

নুসরাতের ঘটনার পর আরও অনেক ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত কোনো ঘটনারই বিচার হয়নি। বিচারে এত বিলম্ব কেন?বিলম্বের কারণে মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। আশা করি সরকার ও প্রশাসনের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হবে।বিচার বিভাগের গতি আরও বাড়বে। এসব ঘটনায় বিচার যত দ্রুত হবে, মানুষের মনে তত দ্রুত হতাশা কেঁটে যাবে। তাদের মধ্যে আশা সঞ্চার হবে। মানুষের মনোবলও বাড়বে। অপরাধীরা ভাববে বিচার হচ্ছে, তাই অপরাধ করা যাবে না।দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মনের ভয় কেঁটে যাবে।

মাদ্রাসায় যদি একটি মেয়ে তার অধ্যক্ষয়ের কাছে নিরাপদ না থাকে, তবে সে কোথায় নিরাপত্তা পাবে, এ প্রশ্ন কেউ ভেবে দেখেছেন? মানুষের মানবতা বোধ ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। এটা ভাল নজির নয়। আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এখানে গাফলতি চলবে না। আপনাদের সাথে দেশবাসী আছে।
দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তবে তাকে ওখান থেকে সরিয়ে দিন। যারা পারবে তাদের ওখানে বসান।যত বড় প্রতিষ্ঠান হোক, ভয়ের কিছু নেই।

নারীরা সমাজের অর্ধেক। পরিবারের মধ্যেই নারীরা নিরাপদ নয়।নারীদের নিরাপত্তা দিন।তাদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলুন। আমরা আপনাদের পাশে আছি।

লেখক: মো. এমদাদুল হক
সাবেক প্রধান শিক্ষক, ইসলামী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, মিরপুর২