ছবি: আজকের পত্রিকা

বর্তমানে ডেঙ্গু একটি ব্যাপক আলোচিত বিষয়। কেননা ডেঙ্গু নিয়ে বর্তমানে যত কথা বলা হয়, অন্য কোনো বিষয়ে তত কথা বলা হয় না। ডেঙ্গু একটি রোগের নাম। এই রোগটি এডিস মশার কামড়ে হয়ে থাকে।বিশেষ করে বর্ষাকালে এর প্রকোপ দেখা যায়।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত বেশকিছু মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। এ নিয়ে সরকার ও প্রশাসন বেশ নাকাল অবস্থায় আছে।তারা এর দায় গ্রহণ করতে চায় না। এর দায়দায়িত্ব তারা অন্যের ঘাড়ে তুলে দিতে চায়।মূল কথা হচ্ছে যে ডেঙ্গুর কারণ- এডিস মশা আমাদের কারণেই বিস্তার লাভ করে।

আমরা যারা ঢাকাবাসি তারা খুব ভালো করেই জানি আমাদের বাসার ভিতরে এবং চারপাশেই এডিস মশা বিস্তারের অনুকূল অবস্থা বিরাজ করছে। অর্থাৎ ডেঙ্গুর জন্য আমরা জনগণই দায়ী।আমাদের অপরিনামদর্শী কাজকর্ম এডিস মশা বিস্তারের কারণ।

আমরা অনেকেই বাড়ির চারপাশে এবং ঘরের ছাদে গাছ রোপন করি। তার জন্য টব ব্যবহার করি।টবের পানি এডিস মশার অন্যতম স্থান। এ টবে পানি জমে থাকে দিনের পর দিন। সেদিকে কারও খেয়াল নেই।এ পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্মে এবং তা বড় হয়ে আমাদের দারুণ ক্ষতি করে।

আমাদের সচেতন হতে হবে। শুধু বর্ষা মৌসুম না, সারাবছরই এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করতে হবে।তাহলে আর বর্ষার সময় এডিস মশার আক্রমণ থাকবে না এবং ডেঙ্গু হবে না।সরকার ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ কাজটি করতে পারে।

এডিস মশা ধ্বংসের জন্য ঔষধ আমদানি নিয়েও এক ঝকমারী কাজ চলছে। কেউ বলছে- সিটি করপোরেশন যে ঔষধ আমদানি করছে তা কার্যকর না। সুতরাং হাইকোর্ট থেকে নির্দেশনা এসেছে যে, অতিসত্তর কার্যকর ঔষধ আমদানি করা হউক। অর্থাৎ সকল মহলকে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে।

এটা কোনো মওশুমী ব্যাপার না।সারা বছর ধরে এর প্রতিরোধ ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। জনগণকে সতর্ক হয়ে এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্রগুলো ধ্বংস করতে হবে। ভয়ের কিছু নেই।আমরা সতর্ক থাকলে ডেঙ্গু আতঙ্ক থাকবে না।

লেখক: মো. এমদাদুল হক
সাবেক প্রধান শিক্ষক, ইসলামী আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়