একটা যেন নাড়ির টান কাজ করে প্রবাসী বাঙালিদের ইফতারে। ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র রমজান মুসলমানদের জন্য এক আর্শিবাদ। এই ৩০ দিন বছরের অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে ভিন্নভাবে কাটে। এটা শুধু দেশে যারা আছেন তাদের জন্য না। পৃথিবীর বুকে বাঙালি এখন ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের জন্যও রমজান এক ভিন্নতা বয়ে নিয়ে আসে। প্রতি বছর প্রবাসে যেসব বাঙালি আছেন, তারা একত্রিত হয়ে ইফতারের আয়োজন করে থাকেন। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই বাংলাদেশি নাগরিক আছেন। আছে বাঙালি কমিউনিটি। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক বাঙালিরা বছরের নানা সময়ে নানা রকম উৎসবে মেতে থাকেন। বাংলা বছরের শুরুতে পহেলা বৈশাখ, পবিত্র মাহে রমজানে ইফতার এবং বছরে দুইটি ঈদ তারা সবাই মিলে মিশে উদযাপন করেন। নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে বলতে পারি পৃথিবীর বেশ কিছু বড় শহরে বাঙালির ইফতার উদযাপনের কথা :

লন্ডন : এখানে রোজার উদযাপন ভিন্ন অনেক দিক থেকে। অনেকে রেস্তোরাঁয় বুকিং দিয়ে আয়োজন করেন ইফতার। আমি ইংল্যান্ডে থেকেছি বছর খানেক। ইংল্যান্ডের ইস্ট লন্ডনে অনেক বাঙালি আছেন।

সবাই এক কাতারে ইফতার। ছবি : সংগৃহীত

ব্রিকলেনে অনেক বাঙালি রেস্তোরাঁ আছে এবং সেখানে গেলে মনে হয় নিজের দেশেই আছি। ইফতারের জন্য ব্রিকলেন এবং গ্রিন স্ট্রিট এর বাবুর্চি রেস্তোরাঁ ছাড়াও স্টার্টফোর্ড থেকে শুরু করে অনেক জায়গায় হালাল মুসলিম রেস্তোরাঁয় ইফতারের আয়োজন থাকে।

নিউ ইর্য়ক : আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে সাগর, বৈশাখী এবং ঘরোয়া নামের রেস্তোরাঁতে ইফতার এর আয়োজন হয়ে থাকে। এছাড়া সবগুলো মসজিদে ফ্রি ইফতার করানো হয়।

সিডনি : অস্ট্রেলিয়ার সিডনিসহ অনেক শহরেই অনেক বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটি আছে, যারা ইফতার আয়োজনের মাধ্যমে নিজেদের ভাতৃত্ববোধ দৃঢ় করে থাকেন। অনেক দিন পর অনেকের সঙ্গে দেখা হয়। স্মৃতিচারণা হয় দেশের। প্রতিবেশী বাঙালিরা জন্য নিজেদের বাসায় আয়োজনের পাশাপাশি বাইরেও ইফতার আয়োজন করে থাকেন।


অন্য ধর্মের মানুষও অংশ নেন ইফতার আয়োজনে। ছবি : সংগৃহীত

সিডনিতে লেকেম্বা নামক এরিয়াতে অনেক বাঙলা রেস্তোরাঁ আছে, যেমন খুশবু এবং বনফুল। ইফতারে শুধুই বুট, পেঁয়াজু হতে হবে এমনটি নয়। অবার্ন এরিয়াতে অনেক লেবানিজ রেস্তোরাঁতে অনেকে আরবীয় খাবার খেয়ে থাকেন। অস্ট্রেলিয়াতে আমরা অনেক বাঙালি মিলে নিজেদের বাসায়ও আয়োজন করতাম। ইদানিং দেখছি আমাদের স্কুলের ছেলেমেয়েরা মিলে একটা গ্রুপ তৈরি করছে। সবাই বিদেশ যাওয়ার পর তার স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কমিউনিটি তৈরি করে।যেমন আমি ইউকে এবং অস্ট্রেলিয়াতে আমার বিশ্ববিদ্যালয় ” ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ” এর কমিউনিটি তৈরি করি।

মালয়েশিয়া : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘মেয়ে’ নামে একটি গ্রুপ আছে। মালয়েশিয়াতে বসবাসকারী অনেক বাঙালি মেয়ে এই গ্রুপের সদস্য। ২০১৭ সালের ৭ই মে, আমরা গ্রুপের কয়েকজন মিলে “মেয়ে: এ সিস্টারহুড মালয়েশিয়া” নেটওয়ার্ক শুরু করি। এরপর ইফতারসহ নানা রকম উৎসব আমরা একসাথে পালন করি। এখনো কিছুদিন পর পর আমি মালয়েশিয়া গেলেই সকল গ্রুপের সদস্যদের সাথে আড্ডা দেই।


ধর্ম ও সংস্কৃতির এক বন্ধন থাকে প্রবাসের ইফতারে। ছবি : সংগৃহীত

কেউ আবার নিজের জন্মভূমির শহরের লোকজনও খুঁজে বের করেন। প্রতিবেশীদের আন্তরিকতারও কোনো কমতি থাকে না। রোজার প্রত্যেকটি দিনই যেন আনন্দময় হয়ে ওঠে, একে অপরের সাথে ইফতারে সামিল হয়ে বন্ধন আরও দৃঢ় করে বাঙালিরা। এভাবেই রমজানে বাঙালিরা যূথবদ্ধ হন নিজ অস্তিত্বের টানে।

লেখক : জেনিফার হোসেন। কমিউনিকেশনস ম্যানেজার, অস্ট্রেলিয়ান একাডেমি অব বিজনেস লিডারশিপ। এডজাংক্ট ফ্যাকাল্টি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।