বিশাল তুষারপাতের কারণে অন্য কোনো স্থানে নড়াচড়া করতে পারেনি ইয়াকগুলো। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সিকিম রাজ্যের প্রায় ৩০০ ইয়াক অনাহারে মারা গেছে। সরকারি সূত্রমতে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে উত্তর সিকিমের শীতল মরু অঞ্চলে তুষারপাত শুরু হয়, এতে দুর্দশায় পড়ে মুংগুথাং ও সো লামু অঞ্চলের ইয়াকগুলো।

এবারের শীতে সিকিমে ১০ ফুট পর্যন্ত তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে, ১৯৯৪-৯৫ সালেও ভারী তুষারপাতের কারণে এ অঞ্চলে অসংখ্য ইয়াক মারা গিয়েছিল। সিকিম রাজ্যের মুকুথাংয়ের একটা অঞ্চলেই দীর্ঘদিন ধরে পড়েছিল ইয়াকের দলটি। বিশাল তুষারপাতের কারণে অন্য কোনো স্থানে নড়াচড়া করতে পারেনি তারা। ফলে অনাহারেই মৃত্যু হয়েছে এই নিরীহ প্রাণিদের।

জেলা শাসক শ্রী রাজ যাদব জানিয়েছেন, উত্তর সিকিমে এবারের আবহাওয়া ছিল খুবই দুর্যোগপ্রবণ। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে টানা তুষারপাতের কারণে ঘাস জন্মাতে পারেনি। ফলে প্রচণ্ড শীত ও খাবারের অভাবে ভুগে ইয়াকগুলো মারা যায়। বাকি যে ইয়াকের দল এই মুহূর্তে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে, তাদের সেবা দিতে অ্যানিম্যাল হাজবান্ডারি দফতরের একটি মেডিক্যাল টিম ওই স্থানে পাঠানো হয়েছে।

জেলা শাসকের তরফ থেকে আরও জানানো হয়, মুকুথাংয়ে ইয়াকদের ১৫টি এবং ইয়ুমথাংয়ে আরও ১০টি ইয়াকের দল একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

ইয়াকগুলোকে বাঁচাতে উত্তর জেলা প্রশাসন আকাশপথে ঘাস, ভুট্টা, আটা, লবণ জাতীয় পশুখাদ্য ছড়ালেও তা কাজে আসেনি। ভারী বরফে ঢাকা পড়ে যায় সব খাবার। বরফ গলার পরই পশুগুলোর মৃত্যুর বিষয়টি জানা যায়।

আজকের পত্রিকা/বিএফকে/সিফাত