ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) পরিচিত মুখ চা বিক্রেতা স্বপন মামা। প্রকৃত নাম আব্দুল জলিল হলেও, টিএসসিতে সবার কাছে স্বপন মামা নামেই তিনি অধিক পরিচিত। প্রায় ৩ দশক ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চা বিক্রেতা হিসেবে কাটানো আব্দুল জলিল এবার এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে ধর্ষণের প্রতিবাদ করতে একই কাতারে দাঁড়ালেন, চাইলেন নিজের প্রতিবন্ধী মেয়ের ধর্ষণের বিচারও।

৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ঢাবি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের এক মানববন্ধনের আয়োজন করলে সেখানে এসে সংহতি প্রকাশ করেন আব্দুল জলিল ওরফে স্বপন মামা। সংহতি প্রকাশের সময় বক্তব্য দিতে গিয়ে নিজের মেয়ের ধর্ষণের কথা বলে কেঁদে ফেলেন তিনি।

এ সময় স্বপন মামা বলেন, ‘ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণের প্রতিবাদে আমি একাত্মতা ঘোষণা করলাম। আমারও এক মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। আমি এর বিচার পাইনি। আমি যেন এর বিচারটা পাই, এ ব্যবস্থা আপনারা সবাই করবেন। আর যেন কোনো দিন কোনো মেয়ে ধর্ষণের শিকার না হয়, সেই ব্যবস্থা আপনারা করবেন।’ এ সময় তার চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।

উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের বাসুদেব গ্রামে ২০ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী মেয়েসহ আব্দুল জলিলের পরিবার থাকে। ২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তার মেয়েকে একই গ্রামের প্রায় ৭০ বছর বয়সী বাচ্চু মিয়া ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। ওই দিনই অভিযুক্তসহ তার দুই ভাই বাহার ও আক্কাসকে আসামি করে মামলা করার পর বাচ্চু মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর ছয় মাস পর পুলিশ অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আসামিকে গত ২৭ নভেম্বর জামিন দেন।

জামিনে বের হয়ে আসামিপক্ষের লোকজন স্বপন মামা, তার ছেলে রনি এবং চাচাতো ভাইকে আসামি করে প্রথমে মাদকের এবং পরে ডাকাতির মামলা করেন। তারপর থেকে নিজ মেয়ের শ্লীলতাহানির বিচার ও তার বিরুদ্ধে করা ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন টিএসসির স্বপন মামা। মামলা চালাতেও হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।

আজকের পত্রিকা/সিফাত