ধর্ষণের দায়ে আটক ব্যক্তি

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে এক প্রতিবন্ধী যুবতী (১৮) কে ধর্ষণ করে অন্ত:সত্বা করার অভিযোগে একটি বাড়ী একটি খামার ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক উপজেলা মাঠ-সহকারী মাসুদ আলম (২৮) কে আটক করেছে পুলিশ।

১৯ জুন বুধবার দুপুরে রামগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। ধর্ষণের শিকার যুবতীর শারীরিক পরীক্ষা জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালেল প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে ১৮ জুন মঙ্গলবার রাতে তাকে আটক করা হয়।

আটককৃত মাসুদ আলম উপজেলার পূর্ব পানপাড়া গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে।

ভুক্তভোগী ও মামলা মামলা সূত্রে জানা যায়, ওই প্রতিবন্ধীর মা একটি বাড়ী একটি খামার ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক রামগঞ্জ উপজেলার মাঠ-সহকারী মাসুদ আলমের নিকট থেকে ২১ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। উক্ত ঋণের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে মাসুদ আলম তার বাড়ীতে আসা যাওয়া করতো।

গত ১৯ মে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়েটি ঘরে দেখতে পাইনি। পরে সে বাড়ীতে ফিরলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারি মাসুদ আলম টাকার লোভ দেখিয়ে তার মেয়েকে ধর্ষণ করেন। মেয়েকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে ডাক্তার জানায় সে দুই মাসের অন্ত:সত্বা। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের কাছে বিষয়টি জানিয়েও কোন সমাধান না পেয়ে মঙ্গলবার রাতে কালিকাপুর ফাঁড়ি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি।

এ ব্যাপারে মাসুদ আলম ও তার নিকটাত্মীয়রা জানান, ধর্ষিতার মা শারমিন আক্তার রিনাকে একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্প থেকে দেয়া ঋণের টাকা ফেরত চাওয়ায় ধর্ষণের বিষয়টি তার উপর চাপানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, গত বেশ কিছুদিন থেকে আমি ঋনগ্রহীতা শারমিন আক্তার রিনাকে ঋনের টাকা পরিশোধ করতে চাপ প্রয়োগ করি।

ঋনের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে শারমিন আক্তার রিনা আমার বিরুদ্ধে তার প্রতিবন্ধী মেয়ের গায়ে হাত দেয়া ও অন্ত:সত্বা করার ব্যাপারে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে ১৮জুন মঙ্গলবার রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আমি অভিযোগ দায়ের করি।

পারিবারিক শত্রুতার জের ধরে একই এলাকার মৃত নিজাম উদ্দিনের ছেলে ফয়েজ আহম্মেদ আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। তাকে আটক করলেও মুল ঘটনা বের হয়ে আসবে।

রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার খোন্দকার মোঃ রিজাউল করীম জানান, প্রকল্প মাঠ-সহকারী মাসুদ আলম স্বাক্ষরিত একটি আবেদনপত্র পেয়েছি। এতে মাসুদ আলম তার সম্মানহানীর করায় শারমিন আক্তার রিনা, তার মেয়ে ধর্ষণের শিকার যুবতী ও একই এলাকার ফয়েজ আহম্মেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন। আমি কোন ব্যবস্থা নেয়ার আগেই মাসুদ আলমকে পুলিশ আটক করে।

কালিকাপুর ফাঁড়ি থানার তদন্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, অভিযোগ পেয়ে রাতেই ফাঁড়ি থানার ইনচার্জ মোঃ এমদাদ হোসেনের নেতৃত্বে ধর্ষণে অভিযুক্ত মাসুদ আলমকে গ্রেফতার করেছি।

রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, মঙ্গলবার রাতে অভিযুক্ত মাসুদ আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে রামগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত)/২০০৩এর ৯/১ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামীকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সোহেল রানা/লক্ষ্মীপুর