মঙ্গল শোভাযাত্রা। ছবি : আজকের পত্রিকা

বাংলা নববর্ষ সূচনার ইতিহাস সময়ের আবর্তন মাপা তো বটেই একই সাথে অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের কারণে চিরায়ত রূপ ধারণ করেছে। মঙ্গল শোভাযাত্রা তারই ধারাবাহিকতা। আর মানবীয় মঙ্গলকেই প্রাধান্য দিয়ে উদযাপনের দিকে ধাবিত  মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে লিখেছেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় গবেষক অলিউর রহমান। 

মঙ্গল শোভাযাত্রা। ছবি : আজকের পত্রিকা

হাজার বছরের ইতিহাসের যে বয়ান প্রচলিত তা জাতীয়তাবাদী বিকারজাত হওয়ার ফলেই বছর ঘোরার সাথে প্রাণ প্রকৃতির যে সম্পর্ক, সে সম্পর্ক বিচ্যুত হয়ে শুধুমাত্র জাতীয় ও মানবীয় মঙ্গলকেই প্রাধান্য দিয়ে উদযাপনের দিকে ধাবিত হয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রা। মানুষ ছাড়াও প্রকৃতির অন্যান্য প্রাণের মঙ্গল ছাড়া যে মানুষের নিজেরই মঙ্গল সম্ভব নয় এই সত্যকে আড়াল করে উন্নয়নে মাতাল রাষ্ট্রে মঙ্গল শোভাযাত্রা একটি নিছক উদযাপনেই পরিণত হয়। এই নিছক উদযাপন কেন্দ্রীকতাকে এবং জাতীয়তাবাদী মানুষ কেন্দ্রীক উন্নয়নের ধারণার বাইরেও সকল প্রাণের উদ্বোধন ঘটিয়ে উন্নয়নের পুনঃসংজ্ঞায়ন করতে তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-বন্দর ও খনিজ রক্ষা জাতীয় কমিটি।

মঙ্গল শোভাযাত্রা। ছবি : আজকের পত্রিকা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রচলিত ডামাডোলের বাইরে আয়োজন করেছিলো প্রাণ- প্রকৃতি রক্ষার শোভাযাত্রা। যেই মঙ্গলের ডাক নিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা নিজেকে উপস্থাপন করে মানুষ ব্যতীত প্রকৃতির অন্যান্য প্রাণী যেমন বাঘ, পেঁচা, মাছ ইত্যাদির নানা সজ্জায়, সেই ডাক শোভাযাত্রার জাতীয়তাবাদী ঐতিহ্যিকতাকে রক্ষার আনুষ্ঠানিকতার তোড়ে সবসময়ই উপেক্ষিত এবং অনুপস্থিত থেকেছে। ফলে রাষ্ট্রে বিদ্যমান প্রকৃতি বিরুদ্ধ নানা উন্নয়ন যজ্ঞ যা মূলতঃ পশ্চিমা উন্নয়ন মডেলের ও বিকৃত রূপ তাকেই উদযাপন করে হাজার বছরের ঐতিহ্যের নামে এক অদ্ভুত প্রকৃতি বিস্মৃতি ভর করেছে।

মঙ্গল শোভাযাত্রা। ছবি : আজকের পত্রিকা

রামপাল, রূপপুর, মহেশখালী কিংবা বাঁশখালীতে প্রকৃতির জন্য বিরূপ প্রকল্পগুলোকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাষ্ট্র পরিচালনার দলীয় শক্তি কাঠামোবদ্ধভাবে উঠে পড়ে লেগেছে। কারণ দেশের মানুষ ও সকল প্রাণীর জীবনের চেয়ে নিজের ও নিজের শ্রেণির জীবন রক্ষাই তাদের জন্য মুখ্য। এই বিস্তৃতি পরায়ন, স্বার্থবাদিতা ও জাতীয় ঐতিহ্যের নামে প্রকৃতির মঙ্গলকে উপেক্ষা করে শোভাযাত্রা নির্বাচনমূলক মঙ্গল থেকে যায় এবং তা থেকে প্রকৃতি বিবর্জিত হিসেবে ভাবনার ফলে প্রাণের ও উদ্বোধন ঘটে না। ফলে মঙ্গল শোভাযাত্রাকে মঙ্গলবাহী করতে হলে প্রাণ প্রকৃতিকে মুখ্য জ্ঞান করে মানুষের উন্নয়নের কথা শুরু করা জরুরি। সেই চেতনার উদ্বোধন ঘটিয়ে মঙ্গলের ধারণাকে পুনর্বিবেচনা করে মঙ্গলের পরিধিকে প্রকৃতি পর্যন্ত বিস্তৃত করলেই মঙ্গল শোভাযাত্রা মঙ্গলের দিকে হাঁটবে।

আজকের পত্রিকা/আ.স্ব/জেবি